ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের ২২টি আসনে ক্ষতি করবে জাতীয় পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৫:০৭ পিএম
আওয়ামী লীগের ২২টি আসনে ক্ষতি করবে জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্রভাবে ১৩২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় মহাজোট অন্তত ২২টি আসনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উঠে এসেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই ২২টি আসনের মধ্যে ১০টিতে জাতীয় পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন হাফিজউদ্দিন আহমেদ। এবার এই আসনটি দেওয়া হয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসীন আলীকে। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

নীলফামারী-১ আসনটি ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হয়েছিল। জাফর ইকবাল সিদ্দিকী সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার এই আসনটি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের আফতাব উদ্দিন সরকারকে। এই আসন থেকে জাতীয় পার্টির জাফর ইকবাল সিদ্দিকী পৃথকভাবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনটিও জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হয়েছিল। এবার এই আসনটি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের এম. এ. মতিনকে। এখানে জাতীয় পার্টি আক্কাস আলী সরকারকে পৃথক প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

গাইবান্ধা-৩ আসনটি ২০০৮ সালে জাতীয়পার্টির ডা. টি এম ফজলে রাব্বিকে দেওয়া হয়েছিল। এবারে এই আসনটি আওয়ামী লীগের ইউনিস আলী সরকারকে দেওয়া হয়েছে। আর জাতীয় পার্টি এই আসনে ব্যারিস্টার দিলারা জামানকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

নাটোর-১ আসনটি ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবু তালহাকে দেওয়া হয়েছিল। এবার এই আসনটি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের শহিদুল ইসলামকে। এখানেও জাতীয় পার্টি নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে যিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনটি ২০০৮ এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এইচ এম গোলাম রেজাকে দেওয়া হয়েছিল। এবার এই আসনটি জাপা’র বদলে আওয়ামী লীগের জগলুল হায়দারকে দেওয়া হয়েছে। এখানেও জাতীয় পার্টি নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে।

২০০৮ সালে ঢাকা-১৭ আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এবার এই আসনটি থেকে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন চিত্রনায়ক ফারুক। হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এই আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনটি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বেগম মমতাজ ইকবালকে দেওয়া হয়েছিল। এবার এই আসনে মহাজোট থেকে একজন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার-২ আসনটি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাটীয় পার্টিকে দেওয়া হয়েছিল। এবার মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিকল্পধারার এম এম শাহীন। এখানেও জাতীয় পার্টি একজন প্রার্থীকে লাঙ্গল প্রতীক দিয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখিত আসনগুলো ছাড়া আরো কয়েকটি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকলে আওয়ামী লীগ কঠিন সমস্যায় পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আসনগুলো হলো- রংপুর-৪, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৫। রংপুর-৪ আসনে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেখানে দ্বিতীয় হয়েছিল। রংপুর-৫ আসনেও ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী জয়লাভ করেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেখানে দ্বিতীয় হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুখোমুখি হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ৪৯ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনেও আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হয়েছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদকে মাত্র ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। এছাড়াও জয়পুরহাটের দুটি আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেওয়ায় আওয়ামী লীগ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বে বলে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে। একইভাবে বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৫ আসনেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জন্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ১৩২টি আসনের মধ্যে বাকী আসনগুলোতে জাতীয় পার্টি তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে তথ্য উপাত্তে উঠে এসেছে।

অতীতের নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বৃহত্তর রংপুর, খুলনা এবং সিলেটের বিভিন্ন আসনে জাতীয় পার্টির ১০ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত ভোটব্যাংক রয়েছে। দেশের অন্যান্য আসনগুলোতে দলটির তেমন প্রভাব নেই। তবে ন্যূনতম ২২টি আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের জন্য মহাজোটের প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর