ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিঙ্গাপুরে কি বোমা ফাটাবেন এরশাদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৭:০০ পিএম
সিঙ্গাপুরে কি বোমা ফাটাবেন এরশাদ?

আজ রাতে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন এরশাদ। কিন্তু এরশাদের দেশ ত্যাগের মাধ্যমেই তাঁর রাজনৈতিক নাটকের শেষ হচ্ছে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং সিঙ্গাপুরে গিয়ে নতুন বোমা ফাটাতে পারেন এরশাদ, এমন আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এরশাদ গত এক মাস ধরেই একের পর এক নাটক করে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশে সবচেয়ে ‘অবিশ্বাসী’ রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই পরিচিত। সকালে এক অবস্থান আর বিকেলে আরেক অবস্থান নিয়ে তিনি মহাজোটকেই শুধু নয় নিজের দলকেই বিব্রত করেছেন। মহাজোটে থেকে বিএনপির সঙ্গে এরশাদের গোপন আঁতাতের বিষয়টিও এখন ওপেন সিক্রেট। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে আলাদাভাবে ১৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়ে তিনি মহাজোটের ঐক্যকেই ঝুঁকিতে ফেলেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মনে করেন, বিএনপিকে খুশি করতেই এরশাদ এভাবে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন। কদিন আগেই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে বের হয়ে এরশাদ অভিযোগ করেন যে, তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

একাধিক সূত্র বলছে, ১৩২টি আসনে আলাদা প্রার্থী দিয়ে তিনি বিএনপির জন্য প্রথম কাজটি করে দিয়েছেন। কিন্তু এটাই শেষ নয়, দেশের বাইরে গিয়ে এরশাদকে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। একটি সূত্র বলছে, সিঙ্গাপুরে পৌঁছাতে পারলেই এরশাদের মুখ থেকে সরকারের নানা সমালোচনা বের করে আনা হবে।   এরশাদকে দিয়ে বোমা ফাটানো হবে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এনিয়েও এরশাদ যে মূল্য হেঁকেছিলেন তা রফা হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারণার জন্য এরশাদকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এরশাদকে দিয়েই আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করার নীল নকশা তৈরি হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, বিষয়টি তেমন না।   নির্বাচনের মাঠে থাকলেই এরশাদের অসংলগ্ন এবং বিভ্রান্তিকর কথা বলার সুযোগ বেশি। এতে মহাজোট একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। বরং বিদেশে গিয়ে এরশাদ চুপচাপ বসে থাকলে মহাজোট নির্বিঘ্নে নির্বাচন করতে পারবে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, এরশাদের ব্যক্তিগত জেদের কারণেই জাতীয় পার্টি ১৩২টি আসনে আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। 

ঐ নেতা মনে করেন, এরশাদ বিদেশে গেলে রওশন এরশাদ এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতদ্বৈততা কাটিয়ে ফেলা যাবে। আওয়ামী লীগ অন্তত ১০০ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় করতে চায়। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির সমঝোতার ভিত্তিতেই এরশাদ সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঐ নেতা। অবশ্য জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘এরশাদ সাহেব সত্যিই অসুস্থ। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন।’ তিনি দাবি করেছেন, ‘এরশাদ বা জাতীয় পার্টি বিএনপির সঙ্গে যে আঁতাত করেছেন বলে বলা হচ্ছে, তা স্রেফ মিথ্যাচার।’ তিনি দাবি করেন, ২০০৮ এর নির্বাচনেও অনেকগুলো উন্মুক্ত আসন ছিল যেখানে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। সেসময় মহাজোটের ঐক্যের কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, এরশাদ আনপ্রেডিকটেবল চরিত্র। সিঙ্গাপুরে গিয়ে তিনি কি করবেন, তা নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারে না।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ