ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

‘সব ঘাঁটেই পানি খাচ্ছে বিএনপি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:০০ পিএম
‘সব ঘাঁটেই পানি খাচ্ছে বিএনপি’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও কৌশল মূল্যায়নে প্রতিবেশী দেশ ভারত দু’টি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। দু’টি প্রতিবেদনের একটি হচ্ছে বিএনপি, ২০ দল ও যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কৌশল এবং নির্বাচনের পর তাদের ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে। প্রতিবেদনটি ভারতীয় দূতাবাস তৈরি করেছে এবং ইতিমধ্যেই তা দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। গত ৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ঐ দিনেই এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয় এবং তার পরদিনই ১০ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ঐ প্রতিবেদনে বিএনপি, ২০ দল ও যুক্তফ্রন্ট সম্পর্কে ভারত যে মন্তব্য করেছে তাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হতে বিএনপি আগ্রাসী, অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য পন্থা নিয়েছে। যে কোনো ভাবেই জয়ী হওয়ার জন্য বিএনপি নৈতিক-অনৈতিক সব পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বড় কথা দলটি চরম দক্ষিণপন্থী এবং মধ্যপন্থী দলগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এটি একটি আদর্শহীন ঐক্য বলে ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি সব পক্ষকে খুশি করতে চাইছে, যা বাস্তবে একটি অসম্ভব ব্যাপার। নির্বাচনী প্রচারণায় তারা জনগণের উদ্দেশ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে জয়লাভ করতে সবকিছুই যেন বিলিয়ে দিচ্ছে তারা। কিন্তু প্রতিশ্রুতিগুলো কতটুকু বাস্তবসম্মত তা বিবেচনাতেই নিচ্ছে না দলটি।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট সব ঘাঁটেই পানি খাচ্ছে।  তারা একাধারে যেমন ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে পাশাপাশি আশ্বাস দিচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভ করলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে তারা। একইভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছে তারা। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পাকিস্তানের সহযোগিতাও চাইছে দলটি। এমনকি চীনের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমতায় আসলে নতুন বাণিজ্য সম্পর্ক উন্মোচনের অঙ্গীকারও করেছে দলটি। কাজেই এমন সর্বগ্রাসী অঙ্গীকার শেষপর্যন্ত কী ফল দেবে তা নিয়ে ভারতীয় দূতাবাস তাদের সংশয় প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে, বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখনো পর্যন্ত আস্থাশীল মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেনি। কেননা আসন্ন নির্বাচনে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে পাকিস্তানপন্থীরা অনেক শক্তিশালী। বিশেষ করে জামাতকে ২২ টি আসন দেওয়া নিয়ে ভারতীয় দূতাবাস বিস্ময়ের পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেননা আসন্ন নির্বাচনে যদি বিএনপি জয়লাভও করে তবে তারা এখন যেসব অঙ্গীকার করছে তা কতটুকু পূরণ করতে পারবে তা নিয়ে গভীর সংশয় ও সন্দেহ রয়েছে তাদের মধ্যে। তারা মনে করছে, কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা কিংবা লক্ষ্য নিয়ে নয় বরং দল বাঁচাতে, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে এবং দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনায় নির্বাচনের মূল লক্ষ্য বিএনপির। এবারের নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ যেন জিয়া পরিবারকে রক্ষার জন্যই। কাজেই এ নির্বাচনের ফলে দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন তো দূরের বিষয়, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সুসম্পর্ক রয়েছে তা কতটুকু ভবিষ্যতে বজায় থাকবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ভারতীয় দূতাবাস।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের অঙ্গীকার করেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলে নির্বাচনের আগে জামাতকে কৌশলে আলাদা করে দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি যে দলটি লাভবান হয়েছে, তা হচ্ছে জামাত। যা বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সম্ভব হয়েছে। বিএনপি ইতিমধ্যেই তার অঙ্গীকার রাখেনি তা পরিষ্কার। কেননা তাঁদের আকাঙ্ক্ষাই যেন এখন যে যাতে সন্তুষ্ট তা দিয়ে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় আসা।  কিন্তু বিএনপি এভাবে ক্ষমতায় আসলে সত্যিকারের মিত্র হিসেবে যেমন আবির্ভূত হবে না তেমনি এ অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যও নিরাপদ হবেনা দলটি তা স্পষ্ট। 

বাংলা ইনসাইডার/বিকে/জেডএ