ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘অতিরিক্ত নার্ভাস আওয়ামী লীগ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:৫৯ পিএম
‘অতিরিক্ত নার্ভাস আওয়ামী লীগ’

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ভারত। এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভারত সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পর্যবেক্ষণ করছে। গত ৯ ডিসেম্বর ছিল নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেই দিন ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি গোপন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এই গোপন প্রতিবেদনটি দিল্লির পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই গোপন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতি আগামী নির্বাচন বিষয়ে ভারতীয় দূতাবাসের  দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যায়ন উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ভারতীয় দূতাবাসের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অযাচিত ভাবে নার্ভাস হয়ে পড়েছে এবং নিজেরাই পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। এই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ সম্বন্ধে যে মূল্যায়নগুলো করা হয়েছে তার সারমর্ম হচ্ছে:

১. আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কেন বিজয়ী করা হবে, আওয়ামী লীগ কেন জনগণের ভোট পাবে, এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ এখনো জনগণের কাছে পৌছাতে পারছেন না। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ যে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছে এবং এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে যে আবার ক্ষমতায় রাখা প্রয়োজন, সেই বার্তাটি আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌছাতে পারছে না।

২. এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। এছাড়াও বিএনপি ২০ দলীয় জোটের সঙ্গেও আছে। এই ঐক্যের কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে স্পষ্টতই নার্ভাসনেস দেখা যাচ্ছে, যা আওয়ামী লীগের মতো এমন দীর্ঘদিনের পুরোনো জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের কাছে কাম্য নয়। আওয়ামী লীগের এই নার্ভাসনেসের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং কর্মীদের মধ্যে একধরনের অজানা আশঙ্কা ভর করছে।

৩. আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর মধ্যে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিনে জাতীয় পার্টি জোটের বাইরে ১৩২ আসনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছেন। বিকল্পধারাও আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগ জোটের দীর্ঘদিনের মিত্র জাসদও আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। আওয়ামী লীগের জন্য এটা শুভ লক্ষণ নয়। শরিকদের একাট্টা করতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে।

৪. অনেক স্থানেই আওয়ামী লীগ অতি মাত্রায় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য নেতিবাচক ফলাফল আনতে পারে। বরং আওয়ামী লীগের ব্যাপক জনভিত্তি রয়েছে। সেই জনভিত্তির উপরে ভর করেই আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে থাকলে আরও ইতিবাচক ফলাফল করবে বলে ভারতীয় দূতাবাস মনে করছে। 

৫. নার্ভাসনেস থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সব থেকে বড় ইতিবাচক দিক হচ্ছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয়তা। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তাকে কতটুকু কাজে লাগাতে পারে তার উপর নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কি ফলাফল অর্জন করবে।

৬. নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলো নানা রকম ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তে তৎপর রয়েছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কতটুকু বুদ্ধিদীপ্ততার সঙ্গে মোকাবেলা করে, সেটার উপর আওয়ামী লীগের নির্বাচনের ফলাফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আওয়ামী লীগ তার দলের অভ্যন্তরের ঐক্যকে অটুট রাখলেও এখন পর্যন্ত দলের বিভিন্ন জায়গায় বিতর্ক এবং বিরোধ রয়েছে বলে ভারতীয় দূতাবাস তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। এই বিরোধ এবং বিতর্কগুলো মেটানোর ক্ষেত্রে আগামী কয়েকটা দিন আওয়ামী লীগকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক দিক হচ্ছে যে, সেক্যুলার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার যে অঙ্গীকার, সেই অঙ্গীকার থেকে সরে আসেনি। দেশের জনগণ স্পষ্টভাবেই জানে যে, সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগ একটা উন্নয়নকামী এবং দক্ষ সরকার। এই বিবেচনাটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে আসবে। তবে এই নির্বাচনে জনগণের ভোটের বাইরেও নানামুখী চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র হবে বলে ভারতীয় দূতাবাস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এইসব নানামুখী চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ কীভাবে একটা শান্তিপূর্ণ ভোট করবে, সেটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ