ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ধাওয়া খাচ্ছে ফ্রন্ট প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৭:০১ পিএম
বিএনপির ধাওয়া খাচ্ছে ফ্রন্ট প্রার্থীরা

নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়েই বিএনপি কর্মীদের কাছে ধাওয়া খেলেন মান্না। বগুড়া-২ আসনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বগুড়ায় গিয়েই তিনি স্থানীয় বিএনপির তোপের মুখে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, বগুড়া-২ আসনে প্রার্থী হয়ে গতকাল ১১ ডিসেম্বর মান্না এক সমন্বয় সভা ডাকেন। সভায় তিনি ঐক্যফ্রন্টের সকল দলের সদস্যদের উপস্থিত থাকতে বলেন। সভায় উপস্থিত হয়ে মান্না নির্বাচনে কি করতে হবে, না হবে সে সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, ‘এখানে কর্মী সভায় আপনার দলের ক’জন উপস্থিত হয়েছেন? একজনও তো নাই। বগুড়ায় আসছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।‘ বিএনপির ওই নেতার কথায় বিরক্ত হয়ে মান্না বলেন, ‘কে কোন দলের তা কোন বিষয় নয়, বিষয় হলো ‘ধানের শীষ’ প্রতীক। হঠাতই এসময় বহিরাগতদের ঠেকাও, ধানের শীষ বাঁচাও স্লোগান ওঠে। মান্না তাঁদের থামতে বললে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে মান্না কোনমতে গাড়িতে ওঠেন।  

শুধু মান্না নয়, জাতীয় ঐক্যফন্টের সব নেতাকেই এলাকায় বিএনপির প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। ঢাকা-৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন গণফোরামের নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু। এই এলাকায় বিএনপির মুলশক্তি হলো পিন্টু পরিবার। পিন্টু না থাকলেও তাঁর পরিবারের প্রভাব এখানে প্রবল। এই পরিবারের পক্ষ থেকে মোস্তফা মোহসিন মন্টুকে বলা হয়েছে ‘রোহিঙ্গা’। আজ বুধবার স্থানীয় বিএনপি কর্মীসভা করে বলেছে, নির্বাচনে তাঁরা মন্টুর পক্ষে কাজ করবে না।

ঢাকা-৭ এর চেয়েও খারাপ অবস্থা গাজীপুর-৩ আসনে। এখানে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দীকিকে। বিএনপির স্থানীয় একজন নেতা বলেছেন, ৩০ বছর রাজনীতি করি এ নামে এই এলাকায় কোন রাজনীতিবিদ চিনি নাই। এখন অন্যদল থেকে চোর, বদমায়েশ, টাউটদেরও মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।‘ তিনি বলেন, ‘যাকে চিনি না তারজন্য ভোট করবো কীভাবে?’

এভাবে দেশের সর্বত্র যেখানে যেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরীকদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। একমাত্র জামাতকে বিএনপি গ্রহণ করেছে। কিন্তু গণফোরামের ৭ জন, জেএসডির ৪জন, নাগরিক ঐক্যের ৪জন এবং কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ২জন প্রার্থী এলাকায় ঢুকতেই পারছেন না। এনিয়ে এই প্রার্থীরা ড. কামাল হোসেনের কাছে অভিযোগ করেছেন। ড. কামাল হোসেনও বিষয়টি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলেন। মির্জা ফখরুল ড. কামাল হোসেনকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এসনব সাময়িক উত্তেজনা।‘ আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কর্মীরা একটু ইমোশনাল।‘ কিন্তু ড. কামাল বিষয়টি পছন্দ করেননি। তিনি এনিয়ে বৈঠক করা প্রস্তাব দিয়েছেন।

বাংলা ইনসাইডার/এসআর