ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দলীয় ৪ প্রধানের কে হাসবেন শেষ হাসি

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৪:০২ পিএম
দলীয় ৪ প্রধানের কে হাসবেন শেষ হাসি

‘চারটি রাজনৈতিক দলের প্রধান লড়ছেন এক আসনে। ফলে এ আসনকে ঘিরে কৌতূহল দেশজুড়ে। এ চারজনের দুইজন বর্তমান সংসদের সদস্য। অপর দুইজনও সাবেক সংসদ সদস্য। আসন্ন নির্বাচনে সংসদে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় কে থাকবেন এগিয়ে তা নিয়ে চলছে নানা হিসাবনিকাশ। এ চার প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)-এর প্রধান এসএম আবুল কালাম আজাদ এবং তৃণমূল বিএনপির সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। এ চার ভিআইপি প্রার্থীর কারণে ঢাকা-১৭ আসন এখন গোটা দেশের দৃষ্টিতে। এ আসনে রয়েছেন আরও ৬ প্রার্থী।

ভিআইপি এ আসনের নির্বাচনী হালচাল কেমন? সরেজমিন আসনটি ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের ব্যাপক আগ্রহ হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই দেখার।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসন। দেশের কূটনীতিক পাড়াও এই নির্বাচনী আসনের মধ্যে। এ আসনের সীমানার মধ্যে রয়েছে ভাষানটেক, বালুঘাট ও মানিকদী, ধামালকোট, লালাসরাই, বাইগারটেক ও আলিবর্দীরটেক। রয়েছে রাজধানীর সব থেকে বড় বস্তি কড়াইলসহ তিনটি বস্তি। এ আসনে লড়ছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রার্থী এসএম আহসান হাবিব (মই), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল প্রার্থী আলি হায়দার (বাঘ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিনুল হক তালুকদার (হাতপাখা), বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রার্থী লে. কর্নেল ডা. (অব.) একেএম সাইফুর রশিদ (কুলা), জাকের পার্টির প্রার্থী কাজী মো. রাশিদুল হাসান (গোলাপফুল) লড়ছেন ভোটের মাঠে।

ভোটাররা বলছেন, গত ১০ বছর এলাকাবাসী এমপিদের দেখা পাননি। তাই এবার যাকে দুঃখে-সুখে কাছে পাওয়া যাবে এমন প্রার্থীই বাছাই করবেন তারা। ভাষানটেক টেম্পোস্ট্যান্ডে ওষুধের দোকানি আবদুল জলিল বলেন, এ এলাকায় নতুন করে উন্নয়ন হচ্ছে। নতুন নতুন হাউজিং হচ্ছে। কিন্তু এলাকার পাতি মাস্তানদের চাঁদাবাজিতে মানুষ অতিষ্ট। এদের যন্ত্রণায় অনেকেই বাড়ির কাজ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাড়ি করতে চাইলে জমির পরিমাণ ও কয়তলা হবে সে হিসেবে চাঁদা দাবি করে মাস্তানরা। শুধু তাই নয়, আরেক পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অনেকেই জমির ওপর দিয়ে অবৈধভাবে রাস্তাও করে দিয়েছে। এসব বিষয়ে বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে অতিষ্ট এলাকাবাসী গিয়েও কোনো সমাধান পায়নি। কখনো উল্টোটা হয়েছে। বিচার দেয়ার পর সন্ত্রাসীরা নতুন করে চাঁদা চেয়েছে। ভাষানটেকে জমি কিনে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে একজন আইনজীবী বাড়ির কাজ বন্ধ রেখেছেন। ভুক্তভোগী ফারুক হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, দুইবছর আগে বাড়ির প্ল্যান পেয়েছি। কাজ শুরু করতে গিয়ে তিনটি গ্রুপ আমাদের কাছে চাঁদা চায়। স্থানীয় কমিশনার, এমপি এবং স্থানীয় ক্লাবের পরিচয় দিয়ে এ চাঁদা চাওয়া হয়। কাউকে চাঁদা না দেয়ায় আমার জমির ওপর দিয়ে অন্য একটি গ্রুপকে রাস্তা করে দেবে বলে ৩০ লাখ টাকা নেয়। এতে বাধা দিলে তার অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে আমি কোর্টে মামলা করে বাড়ির কাজ বন্ধ রেখেছি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদের কাছে গিয়ে কোনো প্রতিকার পাইনি। সবাইকে ম্যানেজ করে চলার পরামর্শ দেন তিনি। তার দাবি, অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে এলাকায় এমপিগিরি করবে এ রকম কাউকে ভোট দেবে না এলাকাবাসী।

বিভিন্ন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক, ভাঙা রাস্তাঘাট এলাকার অন্যতম সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে যারা প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে তাকেই ভোট দেবেন তারা। তবে, বর্তমান প্রার্থীদের নিয়ে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তরুণ ভোটার তানবির বলেন, এ আসনে সব সময় হেভিওয়েট প্রার্থী দেয়া হয়। গত বছর বিএনএফ নামে একটি দলের যে এমপি ছিল তিনি কোনোদিন এলাকার কোনো সমস্যার সমাধান করে দেয়নি। এবার আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেখে তারা খুশি। তিনজনই প্রভাবশালী প্রার্থী। এলাকাবাসী তাদের কাছে পাবে এমন প্রত্যাশা করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রথমে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম এমপি হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনের এমপি নির্বাচিত হন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর সর্বশেষ ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হন।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর