ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিএনপির পক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওকালতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
বিএনপির পক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওকালতি

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলেন ‘বিএনপি সরে গেলে কি নির্বাচন হবে?’ আজ সকালে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের। যদিও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘এটা সৌজন্য সাক্ষাত। নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে।’কিন্তু দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা, বিরোধীদের প্রচারণায় বাধা এবং প্রশাসনের পক্ষপাত নিয়ে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একই বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেও।

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো বলছে, মূলত: বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ওকালতি করতেই রবার্ট মিলারের এই দৌড় ঝাপ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরী করা ঠিক হবে না যাতে বিরোধীরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। রবার্ট মিলার এটাও বলেন যে, বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট যদি নির্বাচন থেকে সরে যায় সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক। সেক্ষেত্রে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে সুদূর পরাহত। অবশ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বিভিন্ন স্থানে যে সহিংসতা হচ্ছে তা বিএনপির সৃষ্টি অথবা মিথ্যা প্রচারণা। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে আওয়ামী লীগ কেন হামলা করবে?’ এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের সহানুভূতি আদায়ের জন্যেই বিএনপি এটি করছে।’ এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত কয়েকটি নির্বাচনী এলাকার ঘটনার নিউজ ক্লিপিং এর উল্লেখ করেন। ওবায়দুল কাদের তাকে বলেন, সংবাদগুলো একটি পত্রিকার এবং এসব পক্ষপাতপূর্ণ।’ তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ‘শুধু সংবাদপত্রের খবরের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাকে জানান যে, তাঁদের কাছে খবর আছে যে, বেশ কিছু নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন সব ক্ষমতাই নির্বাচন কমিশনের হাতে। এরকম কিছু হলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বময় ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত সংঘাত মুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে মার্কিন অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে যেন জনমত প্রতিফলিত হয়। জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পাল্টা অভিযোগ করেন যে, বিএনপিই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সহিংস করে তুলতে চাইছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। রবার্ট মিলার নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের প্রসংগটিও উত্থাপন করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক পক্ষের কথা না শুনে বরং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এবং জামাতের সঙ্গে অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী রয়েছে বলে আমি শুনেছি। এরা নির্বাচনের আগে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলেও আমাদের কাছে তথ্য আছে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কাউকেই বিনা কারণে আটক করা হচ্ছে না।’ রবার্ট মিলার বলেন, বিএনপি যেন নির্বাচনে থাকে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়। যেন একটি অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়।’

বাংলা ইনসাইডার