ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

‘বর্জন করলে বিএনপি জঙ্গীদের দখলে যাবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
‘বর্জন করলে বিএনপি জঙ্গীদের দখলে যাবে’

বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে যায়, তাহলে সংগঠনটির কর্তত্ব দক্ষিণপন্থী এবং জঙ্গীদের হাতে চলে যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন আশঙ্কাই করছে। এজন্যই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যেকোন মূল্যে বিএনপিকে নির্বাচনে রাখার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছে। এরকম নির্দেশের কারণেই নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছে।      

মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই তিনি বৈঠকে বসেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। রাতে রবার্ট মিলার প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে বৈঠক করেন। আজ রবার্ট মিলার কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি ২০১৪’র নির্বাচন বর্জন করেছিল। এবার দলটি নির্বাচনে এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে থাকবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি যদি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে তা হবে গণতন্ত্রের জন্য এক বিরাট আঘাত। এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার বিপন্ন হবে। এতে বলা হয়েছে, বিএনপির সঙ্গে বাংলাদেশের কট্টর দক্ষিণপন্থী এবং ইসলামপন্থী দলগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে উদারপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বিএনপির ঐক্যে অসন্তুষ্ট ইসলাম পছন্দ দলগুলো। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হবার ফলে বাংলাদেশে ইসলাম পছন্দ দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাঁরা এখনো সুযোগ খুঁজছে। জামাতসহ ইসলামপন্থী দলগুলো বিএনপিকে ডঃ কামাল হোসেনদের কাছ থেকে আলাদা করতে চাইছে। এজন্য তাঁদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা আছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই রিপোর্টের সূত্র ধরেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত দেশের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলছেন। এসব বৈঠকে তিনি রাখঢাক না রেখেই বলছেন, দেশের নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সংঘাতময় রাজনীতি চায় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন দূতাবাস মনে করছে, বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রচারাভিযানে বাধা, বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইত্যাদি বিষয়গুলো বিএনপিকে নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে উৎসাহিত করবে। সূত্রমতে মির্জা ফখরুল ইসালাম আলমগীরও মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকতে চাই। কিন্তু ক্রমশ: এমন হয়ে উঠেছে যে আমি আর দলকে বোঝাতে পারছি না। কর্মীরা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। এভাবে কতদিন পারবো আমি জানি না।’ সূত্রমতে ফখরুল মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, ‘দলে এখন তাকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যে কি করতে নির্বাচন করছি।’

বাংলা ইনাসইডার/এমআর