ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তাঁরা তারেকের নেটওয়ার্কে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
তাঁরা তারেকের নেটওয়ার্কে

নির্বাচনের আগেই তারেকের জালে জড়িয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী এবং  ‍সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এসমস্ত সুশীল এবং বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তারেক জিয়া একটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছেন এবং তারা তারেককে বিভিন্ন পরামর্শই শুধু দিচ্ছেন না বরং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য এ সমস্ত বুদ্ধিজীবী ও সুশীলদেরকে ব্যবহার করছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তারেক জিয়ার পরিকল্পনা ও পরামর্শ অনুযায়ী এ সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা কাজ করছেন। এ সমস্ত সুশীল-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় দুটি পত্রিকার সম্পাদক এবং এই পত্রিকা দুটি পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। এ দুটি পত্রিকায় এমনভাবে আওয়ামী লীগ এবং সরকারবিরোধী সমালোচনা করা হচ্ছে যেন সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এবং ভোটে যেন তার প্রভাব পড়ে।

এছাড়াও সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঙ্গেও তারেকের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিপিডি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম নিয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেটি তারেকের পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ব্যাংকিং খাত ছাড়াও আরও তিনটি খাত নিয়ে নির্বাচনের আগেই সিপিডি কিছু গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। যা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও বলছে যে, এ সমস্ত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সামগ্রিক সহযোগিতা আসছে লন্ডন থেকে। শুধু সিপিডি নয়, এর বাইরেও বাংলাদেশের নির্বাচনে সুশসানের জন্য নাগরিক (সুজন) শীর্ষক নির্বাচনের অধিকার ও পর্যবেক্ষণের যে সংস্থাটি রয়েছে সেটির সঙ্গেও তারেক জিয়ার যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের যে প্রচারণা এবং ভোটাধিকার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেগুলোতে সরাসরি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য উপস্থাপন করছে। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সর্বত্রই বলছেন যে নির্বাচনে জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এখনও তৈরি হয় নি এবং তিনি বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে বিএনপির উপর নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন কী কী অনিয়ম করছে প্রতিদিন তার ফিরিস্তি তুলে ধরছেন।

এছাড়াও বেসরকারী সংস্থা অধিকারের সঙ্গে তারেক জিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। অধিকারের প্রধান নির্বাহী আদিলুর রহমান খান শুভ্র বিএনপির কনিষ্ঠ একজন আইনজীবী এবং তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত এক দশকে বাংলাদেশের কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন আইনের শাসন পরিপন্থী কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরা হচ্ছে। এবং অধিকারের অন্যতম কাজ হচ্ছে এই সমস্ত রিপোর্টগুলো বিভিন্ন দূতাবাস এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে প্রেরণ করা যেন ঐ রাষ্ট্রগুলো সরকারের ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে।

শুধু এই দেশের সংগঠন নয়, দেশের বাইরের বেশ কিছু সংগঠনও তারেকের নেটওয়ার্কের আওতায় পড়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এই সমস্ত সংগঠনগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে সরকারের কথিত বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সুশাসনের অভাবের বিষয়গুলো জনগণ ও আন্তর্জাতিক মুলুকে তুলে ধরার জন্য তারেকের এই নেটওয়ার্ক কাজ করছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে তারেক এদের প্রত্যেকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

বাংলা ইনসাইডার