ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এরশাদ: প্রকাশ্যে আ. লীগের, গোপনে বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৭:৫৯ পিএম
এরশাদ: প্রকাশ্যে আ. লীগের, গোপনে বিএনপির

আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উভয়ের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক একনায়ক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। বর্তমানে চিকিৎসার অজুহাতে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন এরশাদ। সেখান থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির খবর রাখছেন। আওয়ামী লীগ পন্থীদের বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে নির্বাচনের প্রচারণা করতে আবার বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট পন্থীদের বলছেন, গোপনে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য। পরিস্থিতি বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। নির্বাচন পর্যন্ত এভাবেই দুই নৌকায় পা রেখে চলতে চান এরশাদ। জাতীয় পার্টির ঘনিষ্ঠ সূত্র গুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এরশাদের নির্দেশেই জাতীয় পার্টি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিচ্ছে আর গোপনে তারা বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করছে।  

জানা গেছে, এরশাদ নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এদের একজন বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন,‘এরশাদ সাহেব আমাদের বলেছেন, মহাজোটে থাকতে, প্রধানমন্ত্রী যা বলে তা শুনতে। মহাজোটের আসন গুলোতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে।’ আবার এরশাদ তাঁর ছোট ভাই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ার জি এম কাদেরকে বলেছেন, ‘বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে।’ যে ১৩২টি আসনে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। সেই আসনগুলোর ক’টিতে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করা যায় তা দেখতেও এরশাদ জি এম কাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পার্টির নিজস্ব ১৩২টি আসনের অন্তত ৩৮টি তারা বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। এই আসনগুলোতে লাঙ্গলের প্রার্থী থাকলেও, তারা ঐক্যজোটের প্রার্থীদেরই সমর্থন দেবে বলে জানা গেছে। বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টির এ রকম সমঝোতার খবর পাওয়া গেছে। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের কোনো ঐক্য নেই এবং নির্বাচনের আগে এরকম কোন ঐক্যের সম্ভাবনাও নেই।’ কিন্তু বিভিন্ন আসনে জাপার প্রার্থীরা যে বিএনপির জন্য নিজেরা ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে, এটা কি জানতে চাওয়া হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এরকম তথ্য আমার কাছে নেই।’ তবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে গিয়ে হয়তো জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দেখছেন, ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার, এজন্য তারা বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন।’

জাতীয় পার্টির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পার্টি কৌশলগত কারণে এবার দ্বৈত ভূমিকা নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে ভালো করে তাহলেও যেন এরশাদের কোন সমস্যা না হয়। সে কারণেই এরশাদ এই অবস্থান নিয়েছেন। দেশে থাকলে তিনি সংবাদকর্মীদের সামনে উল্টাপাল্টা অনেক কথা বলে ফেলবেন এজন্যই তিনি সিঙ্গাপুরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। এরশাদের একজন ঘনিষ্ট জাপা নেতা বলেছেন, ‘এরশাদের ভয় মঞ্জুর হত্যা মামলা নিয়ে। এই মামলা দিয়েই যারাই ক্ষমতায় থাকে তারাই এরশাদকে ভয় দেখায়। এ জন্য নির্বাচন এলেই এরশাদ অস্থির হয়ে যান। একের পর এক সিদ্ধান্ত পাল্টাতে থাকেন।’

বাংলা ইনসাইডার/এমআর