ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচন নিয়ে মার্কিন-ভারতের দুই মত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
নির্বাচন নিয়ে মার্কিন-ভারতের দুই মত

‘বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত মনে করছে, তৃতীয় বিশ্বে নির্বাচনে এ ধরণের ঘটনা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ ধরণের ছোটখাটো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এই দুই দেশের কূটনীতিকদের আলোচনায় এই মতদ্বৈততার খবর পাওয়া গেছে। কূটনীতিক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ঢাকাস্থ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচন এবং বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর করণীয় নির্ধারণে নিয়মিত বৈঠক করছে।

১৬ ডিসেম্বর ছুটির দিনেও দুই দেশের কূটনীতিকরা আলোচনায় বসেছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই আলোচনায় মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনায় চলমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ, লতিফ সিদ্দিকী এবং মাহাবুব উদ্দিন খোকনের উপর হামলার ঘটনা নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করছে বলেও মন্তব্য করা হয়। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছে যে এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনগণ নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। মার্কিন দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সরকারের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করে। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে সে ব্যাপারে তাগিদ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মার্কিন দূতাবাস। কিন্তু ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস এর ঠিক উল্টোমত দিয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন হচ্ছে। সব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যেহেতু দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রধান প্রধান দলগুলো অংশ নিচ্ছে, তাই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস মনে করে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নির্বাচনে সহিংসতা ‘অনাকাংখিত বাস্তবতা’ভারতের নির্বাচনেও এ ধরনের  ঘটনা ঘটে। কিন্তু সামগ্রিক নির্বাচনের উপর এটা কোন প্রভাব ফেলে না।

ভারতীয় দূতাবাস মনে করে, এই অঞ্চলের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রদানের জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। এসব ছোট খাটো সহিংসতার ঘটনা তাদের বিচলিত করে না। ভারতীয় দূতাবাস মনে করে, ‘একটি দেশের নির্বাচন সেই দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়। তাই ছোট খাট বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই ভালো। তাদের মতে, নির্বাচনের শেষে দেখতে হবে জনগনের আকাংখার প্রতিফলন নির্বাচনে ঘটেছে কিনা। ভারত মনে করে, এই উপমহাদেশে জন আকাংখার বিরুদ্ধে ভোটের ফলাফল তৈরী করা প্রায় অসম্ভব। মার্কিন দূতাবাসের বিপরীতে, ভারত আরো অপেক্ষা এবং দেখার নীতি অবলম্বন করতে চায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে বসতে চাইলেও ভারত এতে আগ্রহ দেখায়নি। ভারতের বিরোধীতার কারনেই, নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে ঢাকায় কর্মরত সব দেশের একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি বলেও জানা গেছে। ঐ যৌথ বিবৃতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল।

বাংলা ইনসাইডার