ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘ক্ষমতার পরিবর্তন হলে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৬:৫৯ পিএম
‘ক্ষমতার পরিবর্তন হলে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে’

বাংলাদেশে নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদী শক্তির উত্থান হবে- এমনটাই মনে করছে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি যৌথ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এরকম আশঙ্কা করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্য দূতাবাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ মিশন এই গোপন প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্য দূতাবাস লন্ডনে পররাষ্ট্র দপ্তরে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন  ব্রাসেলস এ পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। 

মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানা সীমাবদ্ধতা এবং সমালোচনা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গত একদশকে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। যদিও এখন মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তার অধিকার হুমকির মুখে। দুর্নীতি এবং সুশাসনের অভাব এখনো বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’ নির্বাচন নিয়ে তৈরী করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গীবাদ এবং মৌলবাদ দমনে দৃঢ় এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারেও আওয়ামী লীগের শূন্য সহিষ্ণুনীতি প্রশংসার দাবি রাখে।’

মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আশাবাদ সৃষ্টি হলেও এর ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে নির্বাচনী মেরুকরণে জামাতের অনুপ্রবেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে। এর ফলে মৌলবাদী এবং ইসলামপন্থীদের পুনরুত্থান ঘটবে।’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘আশা করা হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি জামাত থেকে বিযুক্ত হবে। কিন্তু বিএনপি শেষ পর্যন্ত কোনোভাবেই জামাত থেকে আলাদা হতে রাজি হয়নি।’

যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় নির্বাচনে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী জামাতের অন্তত ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জামাত এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ছাত্রশিবির জঙ্গী সংগঠন। এই সংগঠনের উত্থান গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে এই হুমকি আরও বাড়বে।

নির্বাচন নিয়ে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ড. কামাল হোসেনের মতো বরেণ্য নেতা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান হলেও এর মূল নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতে। বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলগুলোর শক্তির ব্যবধান অনেক। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে সেটাই হবে যেটা বিএনপি চাইবে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির মূল চালিকাশক্তি হলো জামাত। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসবে জামাত। সেক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকারগুলো করেছে, তার কতটুক বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই যায়।’

মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কৌশলে খুব একটা মৌলিক পার্থক্য নেই। ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সুশাসন, মানবাধিকার, মুক্তচিন্তা এবং সংখ্যালঘু অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো বড় পরিবর্তন হবে না। তবে জঙ্গীবাদ এবং মৌলবাদের ব্যাপারে দল দুটির অবস্থান দুই মেরুতে।’


বাংলা ইনসাইডার/এমআর