ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে ‘গণতন্ত্র হুমকিতে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে ‘গণতন্ত্র হুমকিতে’

নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে রাখতে সোচ্চার হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকরা। তাঁরা বলছেন নির্বাচন বর্জন কোনো সমাধান নয়। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে তা হবে গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে, বিএনপির নির্বাচনে থাকা নিয়ে সংশয় দেখছেন কূটনীতিকরা। ঢাকায় কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকদের কাছে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।  
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গতকাল বৃহস্পতিবার এবং আজ শুক্রবার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বৈঠকে তিনি দাবী করেন যে, ‘নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে’। তিনি জানান যে, ‘উচ্চ আদালত বিএনপির সাত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছে, ১৫ জন কারাগারে’। এরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচনে থাকা এক অসম্ভব চেষ্টা বলে মির্জা ফখরুল মন্তব্য করেন।

সূত্র মতে, মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরিস্থিতি যে বিএনপির অনুকূলে নয় এটা তারা বোঝেন। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচনে থাকা উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন। একটি সূত্র বলছে, মার্কিন দূতাবাস মনে করে যে, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে গেলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নতুন সংকটে পড়বে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতোই যুক্তরাজ্য বিএনপিকে নির্বাচনে থাকার অনুরোধ করেছে। গতকাল যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে কী কী অনিয়ম হচ্ছে তার এক ফিরিস্তি তুলে ধরেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার এসব অভিযোগের অনেকগুলোর সঙ্গেই একমত পোষণ করেন। তবে, বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন না করে সে অনুরোধ তিনি ড. কামালকে করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ড. কামাল হোসেন বলেছেন, পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্য মনে করে বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকলে আংশিক হলেও জনমতের একটা প্রতিফলন ঘটবে। এখান থেকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। কিন্তু যদি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে জনগণের অধিকার লুন্ঠিত হবে।

ভারতীয় দূতাবাসও বিএনপিকে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে। বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তাঁর শেষ সাক্ষাতে বিএনপি মহাসচিবকে নির্বাচন বর্জন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর