ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপি’র ভোট বিপ্লবের(!) নেপথ্যে 

সায়েদুল আরেফিন 
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
বিএনপি’র ভোট বিপ্লবের(!) নেপথ্যে 

আর মাত্র একদিন বাকি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। নির্বাচনের মাঠে সরব উপস্থিতি না দেখা গেলেও ঐক্যফ্রন্টের নামে বিএনপি-জামায়তের নেংটি ইঁদুরেরা মাঠে খুব সক্রিয় হয়ে উঠেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নামে তার তলে তলে মাটির নীচে সুড়ঙ্গ কেটে ফেলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব সুড়ঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকার বান্ডিল, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে। প্রায় শতাধিক আসনকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে তারা। ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে রাখছে যোগাযোগ। টাকায় কেনে বেচা হচ্ছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট চুনোপুঁটিসহ রথি-মহারথীরা। এর তালিকায় মনোনয়ন বঞ্চিত কানয়লীগ, বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে এসে পদ দখল করা নব্য আওয়ামী লীগরা অনেকেই আছেন। তাই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশলের কথা কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যাচ্ছে লন্ডনে, আছে পরবর্তী নির্দেশ, বিএনপি’র একাধিক সূত্রে এমন দাবি করেছে।     

বৃহত্তর কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশহী এলাকার প্রায় শতাধিক আসনকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী ২ জন বিএনপি নেতা নিজের এলাকা ছেড়ে ঢাকা ফিরে এসে উচ্ছসিত হয়ে জানিয়েছেন যে, ২০০১ স্টাইলে নির্বাচনের আগের রাতেই বিএনপি যাতে জিতে যায় তার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিকল্পনা ঠিক থাকলে আর তা পরিপূর্ণ বা আংশিক বাস্তবায়ন করা গেলে বিএনপি আশানারুপ ফল পাবে বলে বিশ্বাস করে। বিএনপি’র বাঘা বাঘা নেতা যাদের টাকা পয়সা কম আছে তাঁদের মনোনয়ন বঞ্চিত করে এই অঢেল টাকার সংস্থান করা হয়েছে। জামায়াতের টাকার ভান্ডার তুলে দেওয়া হয়েছে বিএনপি’র লন্ডনী নেতার হাতে। নির্বাচনে জয়ের এই কৌশলের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে অনেক নেতাকে কনভিন্স করা গেলেও কেউ কেউ কনভিন্স হননি। যারা এটা মেনে নিতে পারেননি তেমন একাধিক সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই মাঠে অনুপস্থিত থেকেও সরকার গঠনের স্বপ্নে বিভোর ড. কামাল-মান্না-রব-ফখরুলরা হুংকার দিয়ে বলছেন যে তারা মাঠ ছাড়বেন না।    

জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মসজিদ মাদ্রাসায় তাবলিগ জামায়তের নামে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও নির্বাচনের আগে এলাকায় ফিরে এসে নির্বাচনের কাজে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনায় আছে। যাদের গায়ে দলের তকমা তেমন নেই এমন জামায়াত-শিবির কর্মীরা এবার মরণপণ লড়াইয়ে নামবে মুরুব্বিদের নির্দেশে। পরিকল্পনা আংশিক সফল হলে অন্য আরেকটি পরিকল্পনা নেওয়া আছে। সেক্ষেত্রে যে সব এলাকায় বিএনপির প্রভাব খুব কম, সে সব এলাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জাতীয় পার্টি একটা ভালো সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে। তখন পূর্ব সমঝোতা অনুযায়ী এরশাদ সাহেবের সাথে নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের পরাজয় বা পতন নিশ্চিত করা যাবে। এটাই বলা হবে সরকারের বিপক্ষে জনগনের ভোট বিপ্লব।           

বৃহত্তর কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, কুমিল্লা আর মুন্সীগঞ্জের একাধিক আসনে এমন খবর বাংলাদেশ সরকারের গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নামে কেন্দ্রের বাইরে গোলযোগের সম্ভাবনা তৈরী করে ২০০১ স্টাইলে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের শক্ত-পোক্ত পরিকল্পনা নিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের বোরকার আড়ালে বিএনপি-জামায়াত। যাতে একটা অপ্রত্যাশিত জয় আসে সেই হিসেব বুঝানো আর পলিটিক্যাল কনসালটেন্সির টাকার চাপে ড. কামাল হোসেনকে এত বেপরোয়া মারমুখী রুপে দেখা যাচ্ছে বলে বিএনপি সূত্রে জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে সিলেট স্টাইলে ভোট কারচুপির অভিযোগ চালয়ে যাবে। আর তা না হলে শেষ মুহূর্তে বিক্ষিপ্ত বা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন বর্জন করতেও পারে বলে বিএনপি’র ঐ সূত্রে দাবি করা হয়।