ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সরকারের সঙ্গে আসন সমঝোতায় বিএনপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৬:০০ পিএম
সরকারের সঙ্গে আসন সমঝোতায় বিএনপি?

কাল ভোট। কিন্তু ভোটের আগেই গৃহদাহ শুরু হয়েছে বিএনপিতে। অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতারা দল নয়, নিজেদের ব্যক্তিগত জয়ের জন্যই সরকারের সঙ্গে দেন দরবার করছেন। ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির মহাসচিব তাঁর আসনে জেতার জন্য সমঝোতা করেছেন বলে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার দাবি। তাঁরা বলছেন, সরকারকে হটাতে নয় বরং সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপিকে কিছু আসন দিয়ে বিরোধী দলে বসানো হবে।

বিএনপির একজন নেতা দাবি করেছেন সরকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদও সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অন্য আসনে প্রার্থী হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যারিস্টার মওদুদ এতে রাজি হননি। আওয়ামী লীগ তার দলের সাধারণ সম্পাদককে বলি দিতে রাজি নয় বলেই ঐ সমঝোতা ভেঙে গেছে বলে বিএনপির একজন নেতা দাবি করেছেন। ঐ নেতা বলেন, ‘এটা একটা ভাগ বাটোয়ারার নির্বাচন হচ্ছে। শুরুতে বলা হয়েছিলো যে, বিএনপিকে ৭০ থেকে ৮০টা আসন দেওয়া হবে। কিন্তু পরে দেখা যাচ্ছে নেতারা ৪০/৫০ আসনেই খুশি।

বিএনপির অন্য একজন নেতার দাবি, আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে সমঝোতা কর্মীরা জেনে ফেলেছে। এ কারণে এখন তারাই নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। যদিও অভিযুক্ত বিএনপির শীর্ষনেতারা এ ধরনের সমঝোতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, সরকারকে হটাতেই নির্বাচন করছি। আসন সমঝোতার গুজব বিএনপিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্যই ছড়ানো হচ্ছে। ভোটের দিন যেন কর্মী এবং এজেন্টদের মনোবল ভেঙে যায় সেজন্যই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যদিও বিএনপির অনেক নেতাই বলছেন, আমরা বলে দিতে পারি নির্বাচনে কোন নেতারা জিতবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এলাকায় কোনো পুলিশি উৎপাত নেই। কোনো অভিযোগ নেই ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনের এলাকাতেও। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস, ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা আ. স. ম. আবদুর রব, মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের আসনে ‘সুন্দর’ ভোট হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে না। এটাই সমঝোতার লক্ষণ।

বিএনপির ভোট বর্জনের দাবি থাকলেও এমপি হওয়ার লোভে এইসব নেতারা এখন ভোট বর্জনের পক্ষেও না। এজন্য তাঁরা আনুষ্ঠানিক বৈঠকও ডাকছে না। এখন তো আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে কেউ হারে না। এবারও হয়তো আওয়ামী লীগই জয়ী হতো। কিন্তু নির্বাচন হতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিন্তু আমাদের নেতাদের লোভে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে গেল।’ অবশ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব ‘সমঝোতা’কে বিএনপির আরেক মিথ্যাচার বলেই দাবি করছেন। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘হারার আগে বিএনপি এখন নতুন নাটক শুরু করেছে।’

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ