ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার, ১১:২৮ পিএম
আওয়ামী লীগের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোট গননায় যেটা কাঙ্ক্ষিত ছিল সেটাই হয়েছে। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিজয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে যে আওয়ামী লীগের জয় হবে, এ নিয়ে সম্ভবত কারোরই কোন সন্দেহ ছিলো না। বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভোট বিপ্লবের প্রত্যাশা ছিল স্রেফ কর্মীদের সাহস দেয়ার এক কৌশল মাত্র। বিএনপি নেতারাও ভালো করেই জানতেন, এই নির্বাচনে তাদের জয়ের কোন সম্ভাবনা নেই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠন গুছিয়ে একটি গনতান্ত্রিক রীতির মধ্যেই দল পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েই বিএনপি নির্বাচন করেছে। জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় কথা হলো, এই নির্বাচন আওয়ামী লীগকে এক কঠিন পরীক্ষা, দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলো। এটা একটি রাজনৈতিক দলের অনন্য অর্জন, ঈর্ষানীয় সাফল্য।

নির্বাচনে জয়ের মধ্যে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ এদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল। জাতীর পিতার নেতৃত্বে বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রামের পথ প্রদর্শক আওয়ামী লীগ। তাই এই দলটির কাছে জনগনের প্রত্যাশা এমনিতেই অনেক বেশি ছিলো সব সময়। অন্য রাজনৈতিক দল যেটা করলে স্বাভাবিক, ছোট ভুল মনে হয় সেটি আওয়ামী লীগ করলে রি রি পড়ে যায়। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, জনবিচ্ছিন্ন এক শ্রেনীর সুশীল গোষ্ঠী সারাজীবনই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এই নির্বাচনে জয়ের পর আওয়ামী লীগকে আতশী কাঁচের নীচে ফেলা হবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার দোষগুলো খোঁজা হবে। সবার প্রথমে যেটি করা হবে, তা হলো ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে। শুধু বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্ট নয়, কিছু গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজ নির্বাচনের স্বচ্ছ্বতা, ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এটাকে একটা ইস্যু বানিয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করবে। সেই চেষ্টা মোকাবেলা করাই হবে আওয়ামী লীগের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা একটি দলের নেতাকর্মীর মধ্যে অহংকার, আত্মস্তম্ভিতা পেয়ে বসতে পারে। কেউ কেউ জনগনকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে পারেন। অনেকেই মনে করতে পারেন ক্ষমতা মানে সব কিছু আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে। এই মানুসিকতা যেন কোনভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নেতা-কর্মীদের উদ্যত আচরণ আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ যেমন অনেক ভালো কাজ করেছে তেমনি অনেকগুলো বিষয়ে সমালোচিত হয়েছে। তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারকে অবশ্যই এই সমালোচনার ইস্যুগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকিং খাতের অনিয়মগুলো দূর করতে হবে, গুম, খুনের অভিযোগগুলোর ব্যাপারে সহিষ্ণুতার নীতি নিতে হবে। আওয়ামী লীগকে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হতে হবে। এমনকি নিজের দলের কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগকে সুশাসনের একটা নজির সৃষ্টি করতে হবে। যে সুযোগ জনগণ তাদের দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, গত দশ বছরে বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারা সূচনা হয়েছে তা এগিয়ে নিতে হবে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পসহ মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ আগামী পাঁচ বছরে যদি সম্পূর্ণ হয় তাহলে দেশ যেমন বহুদূর এগোবে তেমনি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে।

তাই এই বিজয়ের উচ্ছ্বাসে গা ভাসাবার সময় আওয়ামী লীগের নেই। আওয়ামী লীগের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ আর একটি কঠিন পরীক্ষা। যে পরীক্ষায় জয়ের বিকল্প কিছুই নেই।

বাংলা ইনসাইডার/বিকে