ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শপথ নেবে না, কর্মসূচি নিয়ে বিভক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৭:০০ এএম
শপথ নেবে না, কর্মসূচি নিয়ে বিভক্তি

বিএনপির হাতেগোনা যে ক’জন নির্বাচিত হয়েছেন, তারা কেউ শপথ নেবেন না। সংসদেও যাবে না বিএনপি। সংসদে না গিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে দলটি। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, লন্ডন থেকে গতকাল রাত ১২ টায় তারেক জিয়া নেতৃবৃন্দকে সর্বাত্মক আন্দোলনের সূচনা নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি হরতাল, অবরোধের মত কর্মসূচী গ্রহণের জন্য তারেক জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের বলেছেন বলে জানা গেছে। তারেক জিয়ার টেলিফোনের পর রাতেই সিনিয়র নেতারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হরতাল, অবরোধের কর্মসূচী দিয়ে কতটা টেকা যাবে, এ নিয়ে দলের অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন,‘আমরা তো ভোটের মাঠেই দাড়াতে পারলাম না। আন্দোলন করবো কীভাবে?’

বরং বিএনপির সিনিয়র নেতারা সভা-সমাবেশ,মানববন্ধন, প্রতীকি অনশনের মত কর্মসূচী গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনও ধ্বংসাত্মক কোন কর্মসূচীতে জড়াবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজ কিছুক্ষনের মধ্যে বিএনপি নেতারা আরেকদফা বসে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। তবে, বিএনপির মধ্যে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণার আগে নিজেদের মধ্যে কিছু বোঝাপড়া বাকি রয়েছে বলে মনে করে অনেক নেতা। নির্বাচনের পরে বিএনপিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পরেছে।

২০১৪- এর নির্বাচন কেন বিএনপি বর্জন করলো, আবার ২০১৮ সালে নির্বাচনেই বা কেন অংশগ্রহণ করলো? দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা এর জবাব চায়। ২০১৪-তে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস এবং অগ্নি সংযোগের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। এখনও বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরও অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। নতুন করে মামলা হয়েছে। আবার আন্দোলনের কর্মসূচী দিলে দেশে কোন বিএনপি থাকবে না বলেই মনে করে বিএনপির তৃনমূলের নেতৃবৃন্দ। বিএনপির একজন মাঠ পর্যায়ের নেতা বলেছেন,‘নেতারা একের পর এক ভুল করবে আর কর্মীরা সেই ভুলের মাশুল দিবে, তা কি করে হয়? আগে যেসব নেতারা ভুল সিদ্ধান্ত এবং সরকারের সঙ্গে আতাতের কারণে এই অবস্থা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা আন্দোলনের কর্মসূচী নিয়ে দ্বিধান্বিত।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ