ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

২০১৯: রাজনীতি কি আবার সহিংস হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৬:০০ পিএম
২০১৯: রাজনীতি কি আবার সহিংস হবে?

বিদায়ী বছরে রাজনীতিতে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ থাকলেও সহিংসতা ছিলো না। ফেব্রুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের পর যে রাজনৈতিক উত্তাপের আশঙ্কা করা হয়েছিল সেই উত্তাপের কিছুই চোখে পড়েনি। নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তার শঙ্কা ছিলো শেষ পর্যন্ত তাও কেটে যায়। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং একটি একতরফা ফলাফলের  মধ্য দিয়ে শেষ হলো ২০১৮। কেমন হবে ২০১৯’র রাজনীতি? গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু এবার নির্বাচনে জাতীয় সংসদ প্রায় বিরোধীদল শূন্য হয়েছে। নির্বাচনে দ্বিতীয় হয়েছে জাতীয় পার্টি। যারা মহাজোটের অংশ। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসন সংখ্যা দুই অংকেরও কম। তাই, ২০১৯ এর রাজনীতির সবথেকে বড় ঝুঁকি ক্ষমতাসীন দলই। অতি ক্ষমতা অনেক সময়ই রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং নেতাদের বেপরোয়া করে তোলে। তাদের পরমত সহিষ্ণুতা কমে যায়। বিরোধী মতকে গ্রহণের ধৈর্য নষ্ট হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ কি টানা তৃতীয়বারের মতো দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে এরকম আচরণ করবে? যদিও আওয়ামী লীগ সভাপতি বারবার দলের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দেশের প্রায় একক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়ে আওয়ামী লীগ জনগণ এবং বিরোধীদের সঙ্গে কী আচরণ করে সেটাই দেখার বিষয়।

২০১৯ এর রাজনীতিতে আরেকটি আশঙ্কা বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে বিএনপি-জামাত। সংসদীয় রাজনীতির সুযোগ না পেয়ে বিএনপি সহিংস এবং সন্ত্রাসী পথ গ্রহণ করতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। দলটি আওয়ামী লীগকে ভোটের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে না পেরে অন্য পথ খুঁজতে পারে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিএনপির এখন হারাবার কিছু নেই। এজন্য আবার দলটি হরতাল, ঘেরাও এর মতো সহিংস রাজনীতির পথে পা বাড়াতে পারে, এমন আশঙ্কা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিএনপি কি করবে তা স্পষ্ট নয়। দলের মধ্যে একটা গ্রুপ মারমুখী হয়ে উঠেছে। এদের হাতে বিএনপি দেশে আবার একটি সংঘাতময় রাজনীতির সূচনা ঘটাবে কিনা সে আশঙ্কা দিয়েই নতুন বছর শুরু হচ্ছে। অবশ্য নতুন বছরের একটা ইতিবাচক দিক হলো, রাজনীতিতে স্বাধীনতা বিরোধী ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর পরাজয়। ২০১৮তে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ক্ষয় শুরু হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা নিঃশেষিত প্রায়। এটা একটা বড় অর্জন। কিন্তু রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একক আধিপাত্যে এই অর্জন এখনও ম্লান হওয়ার আশঙ্কা রয়েই গেছে। তবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, রাজনীতি এবং রাজনীতির ধারা পুরোটাই এখন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে। ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীলতা, মার্জিতবোধ এবং গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার উপর নতুন বছরের রাজনীতি অনেকখানি নির্ভর করবে।

বাংলা ইনসাইডার