ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘গেম ইজ নট ওভার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৬:০০ পিএম
‘গেম ইজ নট ওভার’

নির্বাচন হয়ে গেছে। শপথ নিয়েছেন আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। নতুন মন্ত্রিসভাও গঠিত হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্যন্ট বিধ্বস্ত, বিপন্ন। নির্বাচন প্রত্যাখান করলেও তাদের মধ্যে পরাজয় মেনে নেওয়ার আত্মসর্মপন। আপাতদৃষ্টিতে রাজনীতি শান্ত, সবকিছুই ঠিকঠাক। কিন্তু বিএনপির অনেক নেতাই বলছেন, ‘দ্য গেম ইজ নট ওভার ইয়েট।’ খেলা এখনও শেষ হয়নি। এখনও অনেক কিছুই বাকি। সরকার এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলছে নানা ষড়যন্ত এবং চক্রান্ত। সামনে অপেক্ষা করছে অনেক কিছুই। আর বিএনপির নেতারা এসব কথা বলছেন লন্ডনে পলাতক তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার বরাত দিয়েই। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেক এখন দলের মধ্যস্তরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। এরকম একজন নেতা বলেছেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অনেক কিছুই হবে।’ বিএনপির বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, ‘নতুন সরকারকে বিপদে ফেলতে নানা রকম ষড়যন্ত্রের ফাঁদ আটছেন তারেক।’ একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাও এ ধরনের তথ্যের স্বীকৃতি দিচ্ছেন। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলছিলেন ‘স্বাভাবিক পন্থায় এবং নির্বাচনে না পেরে তারেক এখন অন্য খেলায় মেতেছেন।’ একটি সূত্র দাবি করেছে, বিএনপির একাধিক নেতাকে তারেক বলেছে, সরকারকে এক মুহূর্ত শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।’ একটি সূত্র বলছে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকদের যে ‘অসন্তোষ’ তার পিছনে ষড়যন্ত্রকারীদের হাত রয়েছে। শুধু পোষাক খাত নয়, পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সড়ক আইন নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন নতুন করে উস্কে দেওয়ার পায়তারা চলছে। তারেক এবং জামাত কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেও কাজ করছে বলে জানা গেছে। ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত কোটা সংস্কারের নেতাদের নতুন তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, প্রচুর অবৈধ অস্ত্রের চালান বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য তাদের কাছে আছে। এসব অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হত্যা, নাশকতা করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ব্লু প্রিন্ট করা হয়েছে।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক আন্দোলনের বাস্তবতা নেই, এজন্যই অন্য প্রক্রিয়ায় সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় সক্রিয় তারেক জিয়া। গুপ্ত হত্যা, নাশকতা, শ্রমিক আন্দোলন ইত্যাদি করে একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। একজন বিএনপি নেতা বলেছেন, ‘আমরা হাল ছেড়েছি বলে মনে করা হলেও তা সঠিক নয়। অল্প কিছুদিনের মধ্যে দেখবেন একের পর এক ঘটনা ঘটছে।’ অবশ্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নির্বাচনের আগেও এরকম নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য তাদের হাতে ছিল। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃঢ়তা এবং দায়িত্বশীলতার কারণে সেসময় বিএনপি জামাতের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।’ গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা এ ব্যাপারে তৎপর আছেন।

বিএনপি সূত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল বাতিল নিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছিল বিএনপি। কিন্তু তারেক জিয়াই আপাতত আন্দোলন নয় বলে মত দিয়েছে। বিএনপি দেখাতে চায় তারা নির্বাচনের পর বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। যেন নাশকতা বা অন্য কোনো ঘটনার দায় তাদের ওপর না আসে। একাধিক সূত্র বলছে, তারেক ভয়ংকর সব পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডার