ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উপজেলা নির্বাচন: বিএনপি ছাড়ার হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৬:০০ পিএম
উপজেলা নির্বাচন: বিএনপি ছাড়ার হিড়িক

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক সংখ্যক স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপির নেতা অন্যদলে যোগ দিবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু বিএনপির মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাই উপজেলা নির্বাচনে যেতে আগ্রহী। বিশেষ করে, যারা এখন উপজেলা চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। তারা উপজেলা নির্বাচনে যেতে আগ্রহী। যেহেতু বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাবে না বলে সিদ্ধান্ত মোটামুটি স্পষ্ট হয়েছে। সেহেতু এই সমস্ত নেতারা এখন দুটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরী করেছে বলে জানা গেছে।

এই দুটি দল হলো বিকল্প ধারা এবং জাতীয় পার্টি। বিকল্প ধারার অন্যতম নেতা মাহি বি চৌধুরী বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘আমরা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আমরা উপজেলা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবো বলে আশাবাদি’। বিএনপির অনেকেই এবার উপজেলা নির্বাচনে বিকল্প ধারায় যোগ দিতে পারবে বলে শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেকের যোগাযোগ হচ্ছে। কারণ আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের আগেও অনেক প্রবীন এবং ভালো নেতা বিএনপি ছেড়ে বিকল্প ধারায় যোগ দিয়েছেন। আমরা উপজেলা নির্বাচন যেহেতু খুব ভালোভাবে করবো। আমরা তৃনমূলে একটি শক্তিশালি অবস্থান গড়তে চাই। বিএনপির যে সমস্ত প্রার্থী জনপ্রিয় যোগ্য এবং ভালো প্রার্থী, তাদের দরজা বিকল্প ধারার জন্য উম্মুক্ত রয়েছে।’

একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত সম্ভব্য প্রার্থীরা অধ্যাপক বি চৌধুরি এবং মাহি বি চৌধুরির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। বিএনপি যদি নির্বাচন না করে তাহলে তারা উপজেলা নির্বাচনের আগে আগে বিকল্প ধারায় যোগ দিতে আগ্রহী।

একইভাবে কিছু নেতাকর্মী জাতীয় পার্টির সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন,‘জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং বরাবরই জাতীয় পার্টি স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল করে। এবার নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। ’ তার কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছিল বিএনপি থেকে কেউ যোগ দিবেন কিনা। তিনি বলেন যে, ‘এটা এখনো আমরা বলতে পারি না। বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে অনেকেই বিভিন্ন দলে যোগ দিতে পারেন। সেখানে আমাদের সঙ্গে যাদের সামঞ্জস্য হয়। আমাদের সঙ্গে যাদের বনিবনা হবে। তারা নিশ্চয়ই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে পারেন। জাতীয় পার্টির নির্বাচনে একটি শক্তিশালি প্রার্থীতার ক্ষেত্রে বিএনপি বা অন্যকোন দল থেকে যারা আসতে চাইবে, নিশ্চয়ই তাদের বিবেচনা করবে।’

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষে একটি বড় যুক্তি দেখানো হয়েছিল। যদি তারা নির্বাচনে না যায়। তাহলে বিএনপির অনেক প্রার্থী বিকল্প ধারা বা অন্যকোন দলে যোগ দিতে পারে। সেই যুক্তিতেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এবার উপজেলা নির্বাচনের আগে তারা বলেছে যে, এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন নয়। তখন যারা উপজেলা মনোনয়ন প্রত্যাশি বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তারা অন্যদল খুঁজছে। ইতিমধ্যে তারা যোগাযোগ শুরু করেছে।’ বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। তখন থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা হতাশ এবং যারা নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তারা দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এরাই এখন উপজেলা নির্বাচনে বিকল্প ধারা কিংবা জাতীয় পার্টির মতো অন্যান্য দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করার ব্যাপারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক না করুক, এই নির্বাচন ঘিরে যে বিএনপিতে একটা ভাঙ্গন হচ্ছে। তা নিশ্চিত।’

যোগাযোগ করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন , ‘আমরা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না এটা নিশ্চিত।’ তবে তিনি বলেন যে, ‘কেউ যদি দল ত্যাগ করে বা দলের কথা অমান্য করে। শুধু নির্বাচনের লোভে চলে যায়। সেরকম লোককে বিএনপিতে দরকার নেই।’