ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তৃতীয়বারও ঠাঁই হলো না তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ১১:০০ এএম
তৃতীয়বারও ঠাঁই হলো না তাদের

আওয়ামী লীগের তিন সিনিয়র নেতা, যারা ৯৬’র সরকারের মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন এবং তিনজনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ। কিন্তু এরপর আর কখনই মন্ত্রী হতে পারেননি। এদের মধ্যে যার নাম সবার আগে আসে তিনি হলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। শেখ সেলিম ৯৬ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়ও বটে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতিনির্ধারক বলা হয়। ১/১১’র সময় উনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। নির্যাতিত হয়েছিলেন। তারপর থেকে তিনি এমপি হয়েছেন। প্রত্যেকবার যখনই মন্ত্রিসভা গঠন হয়, তখন তাকে নিয়ে আলোচনা হয় যে তিনি হয়তো মন্ত্রী হচ্ছেন। কিন্তু তিনি আর শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী হতে পারেননি। আওয়ামী লীগ হ্যাটট্রিকবার সরকার গঠন করলো। তিনিও হ্যাটট্রিক করলেন, তবে সেটা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে।

তিনজনের আরেকজন হলে আবদুল মতিন খসরু। ১৯৯৬ সালে তিনি আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার হাত ধরেই কলঙ্কজনক ইন্ডিপেন্ডেন্ট অধ্যাদেশ বাতিল হয়। পুরস্কৃতও হন আবদুল মতিন খসরু। আইন প্রতিমন্ত্রী থেকে তিনি আইন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরুর ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারপর ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করেছে। দলে তার পদোন্নতি হয়েছে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন তিনি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি আর কখনই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি। যখনই আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হয়, প্রতিবারই তার নাম আলোচনায় আসে। কিন্তু টানা তৃতীয়বারের মতো তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে ব্যর্থ হলেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী ১৯৯৬ সালে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতিও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতাচ্যূত হয়, তখন তাকে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ১/১১’র পর থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয় এবং তারপর থেকেই তিনি দলের মধ্যে কোনঠাসা এবং আড়ালে চলে গেছেন। যদিও ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর তাকে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও বরফ গলেনি। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক নয়। যার প্রমাণ পাওয়া যায় তৃতীয়বারের মতো তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে ব্যর্থ হলেন।  

বাংলা ইনসাইডার