ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কে হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৭:০০ পিএম
কে হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী?

২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদের তিনি নির্বাচিত সদস্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাহবুবুল আলম হানিফকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তার বদলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১৪ দলের নেতা হাসানুল হক ইনুকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার কারণে হানিফকে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী করা হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে হানিফ ফের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরে দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে নেয়া হয়। মাহবুবুল আলম হানিফের পরে আব্দুস সোবহান গোলাপকে বিশেষ সহকারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু গোলাপ এবার এমপি হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজেই তিনি আর বিশেষ সহকারী হিসেবে থাকতে পারবেন না বলেই একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এবার তাহলে কী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পদ থাকবে? থাকলে কাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে?  

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, দলের দুজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে এক বা একাধিক ব্যাক্তিকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে ২০০৮ সালে যখন মাহবুবুল আলম হানিফকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তখন তার পদমর্যাদা সচিব পর্যায়ে ছিল। কিন্তু এখন যারা বিশেষ সহকারী হবেন, তাদের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ের পদমর্যাদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো বলছে, যারা নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। কিন্তু দলের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যাদেরকে কৌশলগত কারণে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তারা যেন নিজেরা হতাশায় না ভোগেন, সেই জন্যই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার একটা পরিকল্পনা আছে। এবার নির্বাচনে সময় যখন তারা মনোনয়ন বঞ্চিত হন। প্রধানমন্ত্রী তখন তাদেরকে ডেকে কথা বলেন। তাদের নির্বাচন মনিটরিংয়ের কাজে নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্বাচনী সফরে তারা সফরসঙ্গী হন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার পরও তারা দলের জন্য কাজ করেছেন। তাতে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ঠ সন্তুষ্টও। এদের অনেকেরই রাজনৈতিক উজ্জল ভবিষ্যত রয়েছে। দলের জন্য বিগত দিনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। আর এ কারণেই তারা যেন হতাশ না হয়ে পরে। তারা যেন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। আবার একইসঙ্গে তাদের কেউ যেন অপাংক্তেয় মনে না করে।  সেই জন্যই তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার একটি চিন্তা ভাবনা চলছে। যদিও বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, এদের মধ্যে কেউ মন্ত্রীও হতে পারেন। কারণ মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বিন্যাস এখনো হয়নি।

মহিলা এমপি নিয়োগের পর মন্ত্রিসভার একটা পরিবর্ধন হবে। তখন হয়তো এক বা দুইজনকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। অন্য একটি সূত্র বলছে, যেহেতু এরা অনির্বাচিত ব্যক্তি, তাই মন্ত্রিসভায় এদের অন্তর্ভূক্ত করার সম্ভাবনা কম। তাদেরকে বরং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর যে এখন বিশেষ সহকারী স্টাফ রয়েছে। তাদের সবাই প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা। তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ঠতা খুব একটা নেই। প্রধানমন্ত্রী এবারের সরকারে রাজনৈতিক কর্ম পরিকল্পনা এবং পরিকাঠামো বাড়াতে চায়। এজন্য দু- একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ দায়িত্ব দিতে পারেন। এটা যে শুধু বিশেষ সহকারীর পদ হবে এমনটা নয়। অন্যকোন পদে নিযুক্ত করেও প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে বিশেষ দায়িত্ব দিতে পারেন। তাদের পদমর্যাদা কি হবে সেটাও নিশ্চিত নয়। যে চারজন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তার মধ্যে সবাইকে হয়তো বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে না। তবে কাকে দেওয়া হবে। সেটা নিশ্চিত করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।