ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সংলাপ নয়, গেট টুগেদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ১২:০৯ পিএম
সংলাপ নয়, গেট টুগেদার

নির্বাচনের আগে ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের জয়লাভের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছেন তিনি। নির্বাচনের পর আবারও ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তবে এবার সেটা সংলাপ হবে না। হবে পুনর্মিলনী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, যেহেতু এই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সংহত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাবেন। সরকার চালানোর ব্যাপারে তাদের কোন পরামর্শ বা কোন দিক-নির্দেশনা থাকলে তা প্রধানমন্ত্রী শুনবেন।  

নির্বাচনের আগে যে সংলাপ হয়েছিল, সেখানে সকল দল বা জোট আলাদাভাবে  বসেছিল। ৭৫টি রাজনৈতিক দলকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দল, জাতীয় পার্টি, বামমোর্চাসহ সকল দল ও জোট আলাদাভাবে সংলাপে বসেছিল। কিন্তু এবারের সংলাপটা সেরকম হবে না। সকল রাজনৈতিক দল ও জোটকে একইসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হবে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে ৭৫টি দলকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে তবে সেখানে জামাত থাকবে না এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

কবে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানতে চাওয়া হলে বলা হয়, আমরা দিনক্ষণ ঠিক করছি। প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময় এবং সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে গণভবনের সূত্রগুলো বলছে, শুক্রবার অথবা শনিবার ছুটির দিনে এই পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হতে পারে। অন্যসময় যেমন রাজনৈতিক দলগুলো নামের তালিকা পাঠাতো, কিন্তু এবার এই তালিকা চূড়ান্ত করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আমন্ত্রিতদের ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। গণভবনের সূত্র বলছে, এখানে বক্তৃতা পর্ব এবং এখানে নৈশভোজের আয়োজন থাকবে। পুনর্মিলনীর রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। 

ইতিমধ্যে এই সংলাপের ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমরা নিজেরাই সংলাপে বসতে চেয়েছিলাম, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই আগ বাড়িয়ে সংলাপের কথা বলেছেন। এটা শুভ লক্ষণ। তাঁর আমন্ত্রণ পেলে আমরা আলোচনা করবো। তবে এ ধরনের সংলাপকে নেতিবাচকভাবে দেখছে বিএনপি। পুনর্নির্বাচনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের সংলাপ অর্থহীন বলে মনে করছে তারা। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরণের নৈশভোজে কোন আগ্রহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট দাবির ভিত্তিতে সরকারের সঙ্গে সংলাপ করতে চাই। গতবারও দেখা গেছে সংলাপের নামে অর্থহীন ফটোসেশন হয়েছে। সেখানে আমাদের কোন দাবিই অর্জন হয়নি। এবারও আমাদের সুস্পষ্ট কিছু দাবি আছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নিবাচনের ঘোষণা দিতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মু্ক্তি দিতে হবে। আমাদের দাবি পূরণ হলে আমরা সংলাপের বিষয়টি বিবেচনা করবো।’

তবে বিএনপি এবং অন্যান্য দল সংলাপের ব্যাপারে কী অবস্থান নেয় তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্রের উপর। এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আমন্ত্রণ পাঠানো হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, ৩০ জানুয়ারির প্রথম অধিবেশনের আগেই এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হবে। 

 বাংলা ইনসাইডার