ঢাকা, বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শুরু হয়েছে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
শুরু হয়েছে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান বেগবান করেছে। প্রধানমন্ত্রী ‘কাউকে হয়রানি না করে’ দুর্নীতি বিরোধি অভিযানের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দুর্নীতি বন্ধে বেশ কিছু উদ্যোগ এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুর্নীতি সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহনের এক সপ্তাহের মধ্যে দুর্নীতি  প্রতিরোধে যে দৃশ্যমান পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:-

১. দুদকের অভিযান: সরকারী বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র বলছে, শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নয়, সবথেকে বেশি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বিভাগগুলোতে অভিযানেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে রাজউক, গণপূর্ত, ভূমি অফিস, সড়ক ও জনপদ, আয়কর এবং কাস্টমস। দুর্নীতি দমন সূত্রে জানা গেছে, এসব মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বেশকিছু অভিযোগ দুদকে ছিল। সেসব তদন্তের জন্য আগেই এই প্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারির মধ্যে রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে, শুধু এসব প্রতিষ্ঠান নয়, আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধেও দুদক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। ব্যাংকিং খাতে অর্থ আত্মসাতের মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত এবং বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

২. ব্যাংকিং সেক্টরে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ: নতুন সরকার রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চেয়ারম্যান এবং পরিচালক পদে ব্যাংকিং সেক্টরে অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পরিচালক বা চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করেছে।

৩. দুর্নীতিগ্রস্তদের পদোন্নতি বন্ধ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যে সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের পদোন্নতি রহিত করা হবে। ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে পরিচিতদের ভালো পোস্টিং এবং পদোন্নতি দেয়া হবে না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে আর্থিক এবং নৈতিক সততা বড় বিবেচ্য বিষয় বলে গণ্য হবে।

৪. মানি লন্ডারিং বন্ধে টাস্কফোর্স : নতুন সরকার বেশি গুরুত্ব দেবে বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই টাস্কফোর্স বিদেশে অর্থপাচার রোধে কাজ করবে।

৫. উন্নয়নের কার্যক্রম মনিটরিং: সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো মানসম্মত এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম। সরকারী ক্রয় এবং নির্মাণ টেন্ডারে অনেক সময় কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়। মানসম্মত পণ্য না দিয়ে নিম্নমানের পণ্য দিয়ে বিল তুলে নেয়া হয়।  এব্যাপারে তদারকি এবং তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল খোলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক এই সেলের প্রধান থাকবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও সম্পদের হিসাব বিবরণী হালনাগাদ করা, জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আর্থিক তথ্যকে আনা এবং ভালো কাজ ও সততার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এর ফলে দুর্নীতি দৃশ্যমান হারে কমে আসবে।