ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পদত্যাগ নয়, আরো ক্ষমতা চান ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
পদত্যাগ নয়, আরো ক্ষমতা চান ফখরুল

পদত্যাগ নয়, দলের পূর্ণ কর্তৃত্ব চান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে লেখা এক চিঠিতে মির্জা ফখরুল দলের পুনঃগঠনে এবং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দুই বছরের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এই উপস্থাপনায় বিএনপি মহাসচিব সাতটি সুনির্দিষ্ট করণীয় উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো:

১) দলের স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ তরুণ এবং দলের নিবেদিত প্রাণদের দেয়া প্রয়োজন। যারা দলের জন্য সর্বস্ব নিংড়ে দিতে পারবেন।

২) দলের চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দলের মহাসচিবের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। কিছু কিছু বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে হবে। তবে নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে স্থায়ী কমিটিতে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শক্রমে।

৩) জামাতকে কিছু সময়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিতে হবে। ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সমন্বিত করতে হবে। অন্যান্য দল গুলোকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এক প্লাটফর্মে আনতে হবে।

৪. বিএনপির আটক এবং নির্যাতিত নেতা কর্মীদের আইনী সুবিধা দিতে একটি কেন্দ্রীয় আইনী সহায়তা সেল গঠন করতে হবে। আইনজীবীদের স্থায়ী কমিটির কাছে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. দলের মাঠ পর্যায়ের কমিটিগুলো দ্রুত পুনঃগঠন করে সেখানে উদ্যমী এবং সংগঠনের ব্যাপারে সিরিয়াসদের জায়গা করে দিতে হবে।

৬. সিনিয়র নেতাদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে অনতিবিলম্বে সারাদেশ সফরের কর্মসূচী নিতে হবে। সেখানে জনসভা নয়, বরং কর্মীদের সাথে খোলামেলা আলাপচারিতা করতে হবে।

৭. দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সমর্থনের জন্য কাজ করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার চিঠিতে বলেছেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির বিপর্যয় হয়নি। বিএনপির পরাজয়ও হয়নি। ঐ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির পক্ষে জনমত আরও বেড়েছে। এই নির্বাচনকে তিনি গণতন্ত্রের পরাজয় এবং আওয়ামী লীগের বিপর্যয় উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এটাই বাংলাদেশে শেষ দলীয় সরকারের অধীনে শেষ নির্বাচন। এখন আমাদের কাজ হলো জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন দলে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এটাও দলের জন্য ক্ষতিকর। এখন নিজেদের মধ্যে কলহের সময় নয় বরং ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সময়।’ বিএনপি মহাসচিব সংগঠন গুছিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁর লিখিত বক্তব্যে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের পর বিএনপিতে কোনঠাসা ফখরুল। এখন তাঁর সরে যাওয়ার দাবি উঠছে প্রকাশ্যেই। এরকম পরিস্থিতিতে দলের করণীয় সম্পর্কে মহাসচিবের কাছে লিখিত রিপোর্ট চান তারেক জিয়া। গতকাল রোববার রাতেই এই লিখিত রিপোর্টটি তারেক জিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে বিএনপি মহাসচিবের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে।

বাংলা ইনসাইডার