ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দুইবারের এমপিরা বাদ যাবেন সংরক্ষিত আসনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৭:০০ পিএম
দুইবারের এমপিরা বাদ যাবেন সংরক্ষিত আসনে

দুইবার মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছেন, এমন কেউ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। এবার মনোনয়নে সবচেয়ে প্রধান্য দেওয়া হবে, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে নারী সাংসদ নির্বাচিত হন। ৬ আনুপাতিক হারে সংসদে বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে থেকে নারী  সদস্য নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থ্যাৎ একটি দলের ৬ জন জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে , তাদের একজন নারী সদস্য প্রাপ্তির যোগ্যতা পায়। সে হিসেবে আওয়ামী লীগ ৫০ নারী আসনের ৪৩টিই পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই বা তারাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এবার নারী সদস্যের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশির সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সহস্রাধিক নারী এবং সংসদে যাবার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা চেয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। 

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থীতা চূড়ান্ত করা হবে। তবে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যারা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন, তাদের তথ্যগুলো এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছেন। গণভবনেও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ধর্ণা দিচ্ছেন। তারা দলের জন্য অতীতে কি করেছেন এবং এমপি হলে কি করবেন, তার ফিরিস্তি সুযোগ পেলেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরছেন। যারা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না, তারা ছুটে যাচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার কাছেও অনেকে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্যতা ছাড়া কোন তদ্বিরে কাজ হবে না।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি কিছু সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে এবার নারী সাংসদ মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন। এই মাপকাঠি হলো:

১. ৯৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত যারা দুবার সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন তারা সরাসরি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তাদের বিবেচনাতেই আনা হবে না।

২. একবার সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিতরা যদি কাজে দক্ষতার প্রমাণ রাখেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না তাকে সেক্ষেত্রে তারা বিবেচনায় আসবেন। তবে কোনোক্ষেত্রেই ১০ জনের বেশি নারীকে দ্বিতীয় দফায় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

৩. এবারের মনোনয়নে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের যারা বিগত দুই মেয়াদে একবারও মনোনয়ন পাননি এবার তাদের পালা। এদের মধ্যে আবার যারা গত দশবছরে কিছুই পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

৪. ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরই ২০০১ সালের নির্যাতিতদের মনোনয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর নারকীয় অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছিল সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর। এই আক্রমণের শিকার নারীদেরও মূল্যায়ন করা হবে।

৫. দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, তাদেরকেও বিবেচনায় রাখা হবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নারী মনোনয়নেও চমক আনবেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলা ইনসাইডার