ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আজাদ- নজিবুরের ঠাণ্ডা যুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৮:০০ পিএম
আজাদ- নজিবুরের ঠাণ্ডা যুদ্ধ

তাঁরা দুজন প্রিয় বন্ধু। একজন বসেন দোতালায়, অন্যজন নিচতলায়। প্রায়ই একজন আরেকজনের চেম্বারে যান। কুশল বিনিময় হয়, হাসি ঠাট্টাও করেন। দুজন একই ব্যাচের হলেও, একজন অবসরে গিয়ে বিশেষ দায়িত্বে আছেন। অন্যজন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনের মাথা। আপাতত বন্ধুত্বের আড়ালে এখন তাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কথা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। নির্বাচনের সময় এই লড়াই স্তিমিত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ইদানিং আবার স্নায়ু যুদ্ধের কথা শোনা যায়। এরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, অন্যজন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। দুজনই ৮২ ব্যাচের। 

সরকারের কেউ কেউ বলেন, সরকারের কলকাঠি চালাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অত্যান্ত আস্থাভাজন। দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় তার ভূমিকা সব মহলে প্রশংসিত। দক্ষ আমলা। দক্ষতার সঙ্গে সততা মিশিয়ে তিনি নিজেকে একজন অপরিহার্য ব্যাক্তিতে পরিনত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব থেকে অবসরে যান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী হিসেবে নিজের কাছেই রেখেছেন। টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরকার পরিচালনার মোটামুটি সব ক্ষেত্রই সম্পর্কিত। তাই সব কাজ তিনি তদারকি করেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে তাঁর পরামর্শ নেন বলেও চাউর আছে। তিনি অবসরে যাবার পর তার বন্ধু ড. কামাল চৌধুরীকে আনেন মূখ্য সচিব পদে। ড. চৌধুরী আজাদের পরামর্শ ছাড়া কিছুই করতেন না। কামাল চৌধুরীর চাকরি শেষ হলে মুখ্য সচিব পদে আসার কথা ছিলো ড. মোজাম্মেল হক খানের। এখানে আসার প্রস্তুতিও তিনি নিয়েছিলেন। কিন্তু হাঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত বদল করেন প্রধানমন্ত্রী। ড. মোজাম্মেলের বদলে তিনি বেছে নেন সে সময় এনবিআরের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনরত নজিবুর রহমানকে। সাবেক অর্থমন্ত্রী নিজেই এক সাক্ষাৎকারে নজিবুর রহমানের ব্যাপারে কিছু নেতিবাচক কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের প্রতি তিনি কতটা বিশ্বস্ত এবং অনুগত তা নিয়ে আমলা মহলে বিতর্ক কম নেই। তারপরও তাঁর প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব হওয়াটা ছিলো ‘বিস্ময়কর’। অনেকের ধারনা, নজিবকে আনার পেছনে আজাদের হাত ছিলো। ড. মোজাম্মেল ছাত্রলীগ করে প্রশাসনে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরনো। তিনি এলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজাদের কর্তৃত্ব খর্ব হবে, এমন ধারনা থেকেই দূরের বন্ধু নজিবুরকে কাছে টানেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি মূখ্য সচিব পদে ড. কামাল চৌধুরীর মতই একজনকে চেয়েছিলেন।

কিন্তু নাজিবুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শীতল যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। মূখ্য সচিব সব সিদ্ধান্তে ‘সমন্বয়কারী’ হস্তক্ষেপ বন্ধে উদ্যোগ নেন। অনেক ফাইল সমন্বয়কারীকে পাঠানো বন্ধ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিপুল জনপ্রিয় আবুল কালাম আজাদেরও এক বিরুদ্ধ পক্ষ তৈরী হয়। কিন্তু নির্বাচনের সময় দুরত্ব ভেঙ্গে দুজন কাছে আসেন। কিন্তু নির্বাচনের পর এনিয়ে নতুন দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কারা আসবে, কারা থাকবে এনিয়ে দুজনের দুরত্বের খবর কান পাতলেই শোনা যায়। সমন্বয়কারী হিসেবে আবুল কালাম আজাদের ‘সীমারেখা’ তৈরির গুঞ্জন রয়েছে। এসব গুঞ্জন যদি সত্যি হয় তাহলে হয়তো ক্ষমতার লড়াইয়ে একজনের বিদায়ের ঘন্টা বাজবে ‘ক্ষমতাকেন্দ্র’ থেকে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ