ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কে হবেন সংসদ উপনেতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
কে হবেন সংসদ উপনেতা?

৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩ টায় একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। এই অধিবেশন শুরুর আগেই সংসদীয় দলের বৈঠক করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করেছে। কিন্তু সংসদ উপনেতার পদ এখনো কাউকে দেওয়া হয়নি। ৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের উপনেতা চুড়ান্ত করবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদটি কে পাবেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা- কল্পনা চলছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এনিয়ে কথাবার্তা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। ঐ নির্বাচনের পর সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পান প্রয়াত জিল্লুর রহমান। কিছুদিন পরই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীই উপনেতা হিসেবে বহাল ছিলেন। এবারও কি তিনি থাকবেন?

বেগম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছেন। এ কারণে নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছিল। নির্বাচনের পর বেগম সাজেদা চৌধুরী দলীয় কর্মকান্ডে তৎপর হয়েছেন। বিভিন্ন কর্মসূচীতেও তাকে দেখা যাচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত বেগম চৌধুরীরই এই পদে থাকার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে সংসদে যেহেতু বিরোধী দল প্রায় অস্তীত্বহীন।

তবে, আওয়ামী লীগের একাাধিক সূত্রগুলো বলছে, উপনেতার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতির ভিন্ন চিন্তাও রয়েছে। দলের প্রবীণ সদস্য তোফায়েল আহমেদ এবং বেগম মতিয়া চৌধুরীকেও উপনেতা হিসেবে ভাবা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এরা দুজনেই এবার মন্ত্রীত্ব বঞ্চিত হয়েছেন। এদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান এবং তুখোড় বাগ্মি। উপনেতা হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে পারবেন, এমন ধারণা থেকেই তার নাম এসেছে। কিন্তু তিনি দলের সভাপতির আস্থাভাজন নন বলেই আওয়ামী লীগের অনেকে মনে করেন। সেদিক থেকে বেগম মতিয়া চৌধুরী উপনেতার দৌড়ে এগিয়ে। বেগম মতিয়া চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন। কাজেই তাকে উপনেতার দায়িত্ব প্রধান সহজ হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, বেগম মতিয়া চৌধুরী সভাপতির বিশ্বস্ত হলেও দলে তেমন জনপ্রিয় নন। বিশেষ করে প্রাক্তন ছাত্র ইউনিয়ন হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগে তার ব্যাপারে আপত্তি অনেক। এসব বিতর্ক এড়াতে শেষ পর্যন্ত হয়তো প্রধানমন্ত্রী আবার বেগম সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে বেছে নেবেন। কারণ, শেষ বয়সে এসে প্রবীণ এই নেতাকে মনোঃকষ্ট হয়তো দিতে চাইবে না প্রধানমন্ত্রী। সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে প্রথমে বাদ দেয়ার পর আবার প্রধানমন্ত্রী তার হাতেই মনোনয়ন তুলে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষ। তিনি নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রমে উপস্থিত থাকেন। তাই সংসদ উপনেতার পদটি আলংকারিক।’ এই বিবেচনা থেকে শেষ পর্যন্ত সাজেদা চৌধুরীই এই পদে বহাল থাকবেন কিনা, তা বোঝা যাবে ৩০ জানুয়ারি।