ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উপজেলা নির্বাচনে বিপর্যয়ে পড়তে পারে আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ এএম
উপজেলা নির্বাচনে বিপর্যয়ে পড়তে পারে আ.লীগ

উপজেলা নির্বাচনে বিপদ দেখছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পরিচালিত মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহল উপজেলা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন উম্মুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছেন। এরফলে শুধুমাত্র একজনকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতীক দেওয়া হবে এবং যারা মনোনয়ন পাবে না তাঁরা যদি ইচ্ছে করে তাহলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। কিন্তু এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপে বলা হচ্ছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটা হবে দলের জন্য বিপর্যয়কর। কারণ প্রতিটা নির্বাচনী এলাকায় নূন্যতম তিন থেকে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। এই সমস্ত প্রার্থীরা আওয়ামী লীগকে শুধু বিভক্তই করবে না, আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বলছে তাঁরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না কিন্তু বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিএনপি এবং জামাত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে জানা গেছে। সেই সমঝোতা অনুযায়ী ১০০ টি উপজেলা বিএনপি জামাতকে ছেড়ে দিবে। জামাতের প্রার্থীরা সেখানে এককভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবে। বাকী ৩৮৯ টি উপজেলায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও বিএনপির কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায়ে তাদেরকে বার্তা দেওয়া হবে যে, তাঁরা যেন ওই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।

গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বিএনপি এবং জামাত যদি এরকম পরিকল্পিতভাবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এবং আওয়ামী লীগ যদি প্রার্থী উন্মুক্ত করে দেয় তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বড় ধরণের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। এজন্য গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রার্থী উন্মুক্ত করে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। উপজেলা নির্বাচন যেহেতু একটি স্থানীয় নির্বাচন, সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ের লোকজন এখানে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও এই নির্বাচনে প্রচুর স্বতন্ত্র প্রার্থী পাওয়া যাবে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী করার ক্ষেত্রে মত দিয়েছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

অবশ্য আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক মহলও মনে করছেন যে, শেষ পর্যন্ত যদি প্রার্থিতা উন্মুক্ত করা হয় তাহলে উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগে যে বিভক্তি তৈরি হবে সেই বিভক্তি পরবর্তীতে কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব হবে। এজন্য  আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাঁরা কোনো প্রার্থী দেবে না। এটা উন্মুক্ত হবে। তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যাপারে একক প্রার্থী এবং দলের নেতারা যদি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন , ‘আমরা এই বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা করিনি। তবে দলের শৃঙ্খলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  কেউ যদি দলের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কথা বলে বা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করে তবে সেটা অবশ্যই দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে পড়বে। যেটাকে আমরা বরদাস্ত করবো না।‘

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ অন্যচিন্তা করছে। শেষপর্যন্ত উন্মুক্তভাবে প্রার্থিতা না দিয়ে একক প্রার্থিতা দেওয়া হবে এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই খারাপ ফলাফল করতে পারেনা। কারণ আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধাকরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনে বিরাট সাফল্যের পর উপজেলা নির্বাচনে বিপর্যয় ভিন্নরকম বার্তা দিবে। বিশেষ করে যখন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বিএনপি এবং বিভিন্ন মহল।

বাংলা ইনসাইডার/এসআর