ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জীবনহানির আশঙ্কায় ঝুলে আছে তারেকের ফেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৬:০০ পিএম
জীবনহানির আশঙ্কায় ঝুলে আছে তারেকের ফেরা

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার তারেককে ফিরিয়ে আনার যে আবেদন করেছিল, তাঁর প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য সরকার কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে। কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যাও চেয়েছে। এরমধ্যে প্রধান বিষয় হলো, বাংলাদেশে ফেরত গেলে তারেক জিয়ার জীবনহানির কোন আশঙ্কা আছে কিনা।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বাংলাদেশ মিশনকে লেখা এক চিঠিতে এই বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারেক জিয়া বাংলাদেশে ফেরত গেলে কোনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা? একটি মামলায় নিম্ন আদালতে তারেক জিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে কি তা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে কিনা? একই চিঠিতে বলা হয়েছে তারেক জিয়ার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হবার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা? চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে ফিরলে তারেক জিয়াকে ন্যায়বিচার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেয়া হবে কিনা?

কূটনীতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য নীতিগতভাবে তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে দিতে রাজি। এখানে একমাত্র বাধা হলো ‘মানবাধিকার সংক্রান্ত’। ব্রিটেন ‘মৃত্যুদন্ড’কে মানবাধিকার লঙ্ঘন মনে করে। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্ত হোক না হোক এমনকি কোন প্রমানীত অপরাধীরও যদি মৃত্যুদন্ডের শঙ্কা থাকে তখন তাঁর জীবনের নিরাপত্তা প্রদান, ব্রিটিশ মানবাধিকার নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে ব্রিটিশ সরকার তার জীবনের গ্যারান্টি চায়। কারণ তারেক জিয়া দেশে ফেরত দেয়ার বিপক্ষে তাঁর লিখিত বক্তব্যে জীবন হানির আশংকাকে সবথেকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারেক জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় নিম্ন আদালত থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন। তারেক জিয়া বাংলাদেশে ফেরত না যাওয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলেছে, উচ্চ আদালতে তাঁর এই সাজা বাড়িয়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এরপক্ষে তারেক দুটি মামলাকে উদাহরণ হিসেবে দিয়েছেন। একটি তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা। যেখানে নিম্ন আদালত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করেছিল। উচ্চ আদালত তাঁকে সাত বছরের দণ্ড দেয়। তারেক আত্মপক্ষ সমর্থনে দ্বিতীয় উদাহরণ দিয়েছে তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড প্রসঙ্গ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়াকে যে দণ্ড দিয়েছিল উচ্চ আদালত তা বাড়িয়ে দেয়। তারেক জিয়া তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিযোগ করেছে যে, উচ্চ আদালত সরকার নিয়ন্ত্রিত। দেশে বিচার বিভাগের ন্যূনতম স্বাধীনতা নেই। এ প্রসঙ্গে তারেক সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উদাহরণ দিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জীবনহানির ন্যূনতম সম্ভাবণা থাকলেও ব্রিটিশ সরকার তারেক জিয়াকে দেশে ফেরত পাঠাবে না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট দপ্তর বলছে, ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা পায়নি। পাওয়ার পর তাঁদের প্রশ্নগুলো বিবেচনা করা হবে।

 

বাংলা ইনসাইডার