ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অবসরকালীন ছুটিতে থাকা নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৩:০১ পিএম
অবসরকালীন ছুটিতে থাকা নেতারা

সরকারী চাকরীজীবীরা যখন অবসরে যান তখন তাকে বলা হয় পিএলআর। এসময় তারা এক বছরের অবসরোত্তর‌ ছুটি ভোগ করে। এসময় তাদের কোন কাজ থাকে না। কিন্তু সরকারী সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। রাজনীতিতে এমন কোন ছুটি নেই। কিন্তু ইদানিং কিছু রাজনীতিক এরকম অবসরকালীন ছুটি ভোগ করছেন। তারা পদে আছেন, এমপিও হয়েছেন। কিন্তু তাদের কোন কাজ নেই। তারা একরকম অবসর জীবন যাপন করছেন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী ‍নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগের ২৫৮ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন বয়ঃপ্রবীণকে রাখা হয়েছে, যেন শেষ বয়সে তারা নির্বাচিত সদস্য, একটা সম্মান নিযে চলে যেতে পারেন। এরকম অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা নেতার সংখ্যা আওয়ামী লীগে বাড়ছে।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গত সংসদে আওয়ামী লীগের উপনেতা ছিলেন। তার অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাকে এবারের নির্বাচনে প্রথমে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্য তার দীর্ঘদিনের অবদান এবং বয়স বিবেচনা করে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি নির্বাচিত হলেও একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে কার্যক্রমে তিনি থাকতে পারেননি। একরকম অবসর জীবন যাপন করছেন। তাই তিনি এখন অবসরকালীন ছুটিতে আছেন বলা যায়।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুঃসময়ের সাথী এবং দলের নিবেদিতপ্রাণ একজন প্রবীণ নেতা। ১/১১’র সময় তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। এর পুরস্কারস্বরূপ তিনি ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর ২০০৯’র মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সাহারা খাতুন। এখন তিনি বয়সের ভারে ন্যুজ্ব। দলীয় কর্মকাণ্ডে তাকে ঠিকমতো অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় না। তিনি একরকম অবসর জীবনযাপন করছেন। সংসদ সদস্য পদ তার জন্য শুধুমাত্র একটি সম্মান ছাড়া আর কিছুই নয়।

ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ৯৬’র জনতার মঞ্চের অন্যতম রূপকার এবং ৯৬’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য যে কয়জন অবদান রেখেছিলেন তার মধ্যে মহিউদ্দিন খান আলমগীর অন্যতম। তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিব হয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ঐ আমলেই তিনি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এমপি হন। এসময় তিনি একটি ব্যাংক ও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হন। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি সফল হতে পারেননি। তার মালিকানাধীন ফারমার্স ব্যাংকও ডু্বে গেছে। এই নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে টানাপোড়েন চললেও শেষ পর্যন্ত তার অতীত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে তিনি সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে থেকে দূরে থেকে মোটামুটি অবসর জীবনযাপন করছেন।

রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, নরসিংদী থেকে নির্বাচিত। তিনি আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারীদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৮ সালে তিনি তার পুরস্কারও পেয়েছিল। ২০০৯’র মন্ত্রিসভায় তাকে মন্ত্রিত্বও দেয়া হয়েছিল। বয়ঃপ্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও রাজনীতি করেছিলেন। এখন নির্বাচিত এমপি হলেও তিনি একরকম অবসর জীবনযাপন করছেন।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর