ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এত আওয়ামী লীগ এলো কোথা থেকে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৬:০০ পিএম
এত আওয়ামী লীগ এলো কোথা থেকে?

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিদের উপচে পড়া ভীড় দেখে এবার নিজেই বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বলেছেন, ‘এত আওয়ামী লীগ এলো কোথা থেকে? এরা কী দু:সময়ে থাকবে?’ আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করছে।
গত সোমবার থেকে আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচন ফরম দেওয়া শুরু করেছে। প্রথম দিন সকাল নয়টা থেকে ফরম দেওয়া শুরু করলেও , ভোর ছয়টা থেকে উপজেলা মনোনয়ন প্রার্থীদের লাইন লেগে যায়। আওয়ামী লীগের ফরম বিতরনকারী নেতাকর্মীরা হিমশিম খান দলের এই মনোনয়ন ফরম বিক্রী করতে গিয়ে। তারাও অবাক হয়ে যান, এত আওয়ামী লীগ এলো কোথা থেকে!
আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন যে, এখন একটা ধারণা তৈরী হয়েছে যে আওয়ামী লীগের টিকিট পেলেই বোধহয় নির্বাচিত হওয়া যাবে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা মহিলা চেয়ারম্যান হওয়া যাবে। এই ধারণা থেকে যেখানে যে আছে, তারাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের সংখ্যাও এখন বেড়ে গেছে। এই বিষয়টি আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ এবং আওয়ামী লীগের যে রাজনীতি তা থেকে দলকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে বলে দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
তারা মনে করছেন যে, ক্ষমতার হালুয়া রুটির লোভে এখন অনেক আওয়ামী লীগার হয়ে গেছে। দু:সময়ে তারা কতটুকু থাকবে সেটাই হলো দেখার বিষয়। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই বলছেন, ‘৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বা ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের কঠিন সময়ে দেখা গেছে এই আওয়ামী লীগের মিছিল করার লোক পাওয়া যায়নি। প্রতিবাদ করার , কর্মসূচী পালন করার লোক পাওয়া যায়নি। এখন যারা এত আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে, সেই আওয়ামী লীগাররা কি আগামী দিনে আওয়ামী লীগের যখন দুর্দিন আসবে, তখন থাকবে?’

আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। নি:সন্দেহে আওয়ামী লীগ একটি জনপ্রিয় দল। কিন্তু যেভাবে মনোনয়নের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন লোকজন। তাতে কয়জন আওয়ামী লীগার বা কয়জন সুবিধাবাধী, এটা আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। মনোনয়নের জোয়ারে যেন সুবিধাবাধীরা আওয়ামী লীগ দখল করে না নেয়। সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ ব্যাপারে বিরক্তী প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মহিলা আসনে সহশ্রাধিক মনোনয়ন ফরম কেনা, জমা দেওয়া এবং উপজেলায় দীর্ঘ লাইন দিয়ে মনোনয়ন ফরম কেনার বিষয়টিকে পছন্দ করেনি দলের সভাপতি। তিনি মনে করছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছে। এজন্য অনেক সুযোগ সন্ধানী এখন আওয়ামী লীগে আশ্রয় নেওয়ার পথ খুঁজছে। তারা মনে করছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেই হয়তো নির্বাচিত হওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী গতরাতে দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে রাজনৈতিক কৌশল এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেন। এ সময় তিনি দলে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন যে, ‘অন্য দল থেকে লোকজন এসে যেন বিভিন্ন সুবিধা ভোগীরা দলের ভাবমূর্তী নষ্ট না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন দলের সাধারণ সম্পাদককে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা জনপ্রিয় দল। এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যে, আওয়ামী লীগ একটা নীতি আদর্শ ভিত্তিক দল। আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শে যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা সবসময় খোলা। কিন্তু কেউ যদি ক্ষমতার হালুয়া রুটি খাওয়ার জন্য, ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারা কিংবা দলে আছেন তাতে সুবিধা পেতেই হবে বলে আওয়ামী লীগ করেন। তাদের ব্যাপারে আমাকে সতর্ক থাকতে হবে। এবং তাদেরকে যেকোনভাবেই প্রতিহত করতে হবে।’ তিনি আশা করেন যে, ‘দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা এ ব্যাপারে সজাগ থাকবে। যেন সুবিধাভোগীরা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে সুনাম নষ্ট না করতে পারে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, প্রধানমন্ত্রী অতি দ্রুত আওয়ামী লীগের কর্মী এবং কর্মীদের ডাটা বেস তৈরীর জন্য ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সারাদেশে কর্মী এবং নেতাদের তালিকা প্রণয়নের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ‘প্রধানমন্ত্রী চান না যে আদর্শ বিবর্জিত লোকজন আওয়ামী লীগে ঢুকে দলের সুনাম নষ্ট করুক।’