ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী রাজনীতিকদের দূরত্ব হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী রাজনীতিকদের দূরত্ব হচ্ছে?

টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শেখ হাসিনা। তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীকে অনেক কঠোর এবং দৃঢ়দীপ্ত মনে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে প্রথামন্ত্রী কি রাজনীতিবিদদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন? তিনি কি বেশি মাত্রায় আমলা এবং প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়ছেন? ৭ জানুয়ারি যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। সেই মন্ত্রিসভায় তিনি দলের হেভিওয়েটদের বাদ দিয়েছেন। হেভিওয়েটদের বাদ দেওয়া নতুন বিষয় না। ২০০৮ সালে জয়ী হয়েও তিনি দলের হেভিওয়েটদের বাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করতেন প্রধানমন্ত্রী। যেমন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী , আব্দুল লতিফ সিদ্দীকি, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর মত ব্যক্তিরা সে সময় মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

১৯৯৬ সালে প্রথম যখন তিনি সরকার গঠন করেছিলেন। তখন তার পরামর্শক মূলত ছিলেন রাজনীতিবিদরা। তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিমের মত রাজনীতিবিদরা সরকার পরিচালনাসহ সব বিষয়েই তাকে পরামর্শ দিতেন।

কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের শুধু হেভিওয়েটরাই বাদ যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে রাজনীতিতে দু:সময়ের সাথী হিসেবে পরিচিত কেউ নেই। প্রশ্ন উঠেছে  রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কি তার দূরত্ব তৈরী হয়েছে?

মন্ত্রিসভায় একমাত্র ওবায়দুল কাদের ছাড়া রাজনীতিতে পরিচিত এবং সক্রিয় মুখ নেই। অবশ্য ছাত্রনেতা হিসেবে এনামুল হক শামীম মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। কিন্তু এনামুল হক শামীম কখনোই রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক বা রাজনীতি বিষয়ক আলোচনার ব্যক্তি নন। সেক্ষেত্রে এটাই প্রশ্ন উঠেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শক কারা? আমলারাই কি প্রধানমন্ত্রীকে সব বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন? এমনকি রাজনীতির বিষয়েও নাক গলাচ্ছেন?

আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। তারা বলছেন ,‘বিষয়টি একেবারেই সঠিক নয়। বরং প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় মেয়াদে আরও বেশি রাজনৈতিক সম্পৃক্ত হয়েছেন। তিনি দলের তৃনমুল নেতাকর্মী যারা বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ তৃতীয় মেয়াদে আরও বেড়েছে। আগে রাজনীতিবিদদের একটি অংশ বা যারা শীর্ষ নেতা, তারাই শুধু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত দিতে পারতেন। এই মেয়াদে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তৃনমুলের নেতকর্মীরাও আসছেন এবং তারাও তাকে বিভিন্ন মেয়াদে পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছেন। মতামত জানতে চাইছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এরফলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিক তথ্য আসার প্রবেশগম্যতা বেড়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী আগের চেয়ে অনেক বেশি তৃনমূলের তথ্য এবং রাজনৈতিক তথ্য তার হাতের নাগালের মধ্যে আসছে। এটা সত্য যে, প্রধানমন্ত্রী সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা তৈরী হয়েছে। আগে যেমন ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বা একনেকের মিটিংয়ে সিনিয়র নেতারা থাকতেন। এবং সেখানে খোলামেলা কথা বলতে পারতেন। সে বিষয়টা কমে গেছে। যারা নতুন মন্ত্রিসভায় এসেছে। তাদের দুয়েকজন ছাড়া কেউই প্রধানমন্ত্রীর সামনে কথার বলার মত শক্তি এবং মনোবল রাখেন না। ফলে মন্ত্রীসভা বা একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই শেষ কথায় পরিনত হচ্ছে। এই বৈঠকের জন্য যে প্রস্তুতি , তা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী এখন অনেকবেশি তৃনমূলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃনমূলের যোগাযোগ এবং জনসংযোগ দুটোই বেড়েছে। গণভবনের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন। অন্য সময়ের চেয়ে এখন বেশি তৃনমূল নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারছেন এবং তারা খোলামেলাভাবে কথা বলতে পারছেন।

প্রধানমন্ত্রীর যে সমস্ত বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নজড়ে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে তা দলের সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করছেন। তার জন্য তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বাহক হিসেবেই তৃনমূলের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছাগুলো প্রচার করছে। এভাবে এভাবে দলের মধ্যে একটা বিষয় তৈরী হয়েছে, সেটা হলো রাজনীতিতে যারা তৃনমূল যারা কেন্দ্রীয় রাজনীতি করেন না বা যারা মন্ত্রী এমপি নন। যারা সাধারণ জনগনের মধ্যে সরকারকে দেখেন। তাদের মতামতটা এখন প্রধানমন্ত্রী বেশ পাচ্ছেন। এরফলে সরকার পরিচালনায় অনেকবেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা আছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।  

 

বাংলা ইনসাইডার