ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

তারেকের বৈঠক বর্জন করলো স্থায়ী কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৭:০০ পিএম
তারেকের বৈঠক বর্জন করলো স্থায়ী কমিটি

নির্বাচনী ট্রাইবুনালে মামলা করা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে বিএনপি। তারেক জিয়া সবাইকে মামলা করার নির্দেশ দিলেও দলের সিনিয়র নেতারা একযোগে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেছেন। এ সংক্রান্ত গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকও বর্জন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ঐ বৈঠকে তারেক জিয়া ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়েছিলেন।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে মাত্র ৬টি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে প্রথমে নির্বাচনে কথিত কারচুপি এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। নির্বাচন আইন অনুযায়ী, গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইবুনালে মামলা করার বিধান রয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার শেষ সময়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় ফোরামের বৈঠকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু ঐ বৈঠকে কেউই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি। বরং বৈঠকে উপস্থিত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন ‘এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগে। আর মামলায় হেরে গেলে নির্বাচন আইনের চোখে বৈধতা পাবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঐ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড: খন্দকার মোশারফ হোসেনও মামলার বিরোধিতা করে বলেন ‘কারচুপির তথ্য কে দেবে?’ এরপর বিএনপির মামলার উদ্যোগ থেমে যায়।

কিন্তু গত এক সপ্তাহে তারেক জিয়া দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মী এবং প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে মামলা করার নির্দেশ দেন। গতকাল এ নিয়ে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি প্রার্থীদের বৈঠক ডাকা হয়। ঐ বৈঠকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির ৭০ জন প্রার্থী ছিলেন। বৈঠকে তারেক জিয়া সংযুক্ত হয়ে মামলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারেক জিয়ার আহ্বানে ডাকা ঐ বৈঠক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বর্জন করেন। অবশ্য দলের মহাসচিব বিদেশে থাকায় বৈঠকে ছিলেন না। বৈঠকে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেছেন, ‘এসব অর্থহীন কর্মসূচি নিয়ে কী হবে? এই মামলার খরচ কে দেবে? তিনি বলেন ‘দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেলে, তাদের জন্য আইনী লড়াইয়ের অর্থই জোগাড় করা যায় না, আবার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে তার অর্থ কে দেবে?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত নির্বাচনে আদালতের মাধ্যমেই বিএনপির বেশ ক’জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আদালতেই বেগম জিয়াকে দণ্ড দেয়া হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় জামিন দেয়া হয়নি। সেই আদালতে গিয়ে আমরা কী পাবো? আদালত বলবে, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে?’ দলের অন্য একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ‘উদ্ভট’ বলে মন্তব্য করেছেন।

নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপিতে তারেক জিয়ার সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের মতবিরোধ চলছে। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নিয়ে তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান এই মতবিরোধকে প্রকাশ্য করলো। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমশঃ তারেক বিরোধী মেরুকরণ তীব্র হচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতারা এখন প্রকাশ্যেই বলছে, তারেক জিয়া নেতৃত্বে থাকলে দলে কিছু হবে না। এই পরিস্থিতি দলকে ভাঙনের দিকে নিয়ে যায় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর