ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তথ্যভাণ্ডার করছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
তথ্যভাণ্ডার করছে আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য একটি ডাটাবেজ বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতিমধ্যে দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংরক্ষিত নারী আসন ও উপজেলা মনোনয়নের ক্ষেত্রে দুটি বিচ্যুতির প্রেক্ষিতে এরকম তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৩ জনের মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে শিরিনা নাহার লিপিকে মনোনয়ন দেয়া হলে পরবর্তীতে দেখা যায়  তার স্বামী বিএনপি করেন। এজন্য তার নাম প্রত্যাহার করে সেখানে অন্য একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু আওয়ামী লীগ করলে হবে না। তাদের অন্যান্য খবরও সংগ্রহ করতে হবে, একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের হাত ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। আওয়ামী লীগ একটির সংগঠিত ও জনপ্রিয় দল। এজন্য আওয়ামী লীগের সকল সদস্যদের একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রক্রিয়ার কাজ তারা শিগগিরই হাতে নেবেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ২০০৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগে যারা যোগ দিয়েছেন তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হবে। তালিকায় তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা হবে, তারা কোন দল থেকে এসেছেন, আওয়ামী লীগের যোগ দেয়ার পর তারা কী কী সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। তারা শুধুমাত্র আদর্শিক কারণে যোগদান করেছেন নাকি অন্য কোন সুবিধা বা মতলব হাসিলের জন্য যোগদান করেছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে যারা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন তারাই আওয়ামী লীগের বদনাম ছড়াচ্ছে। তাদের কারণেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। এই প্রেক্ষিতে এই তালিকাটা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

তথ্যভাণ্ডারে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত যারা আছেন তাদের মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী বা স্ত্রী এবং নিকট আত্মীয় কে কোন দল করে সেসব তথ্য ডাটাবেসে থাকবে। এসব বিষয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে একটি নির্দেশনা পাঠানো হবে এবং এসব তথ্য তথ্যভাণ্ডারে সংযুক্ত করে হবে।

আওয়ামী লীগের গত ১০ বছরে ক্ষমতায় থাকাকালে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কে কী সুবিধা ভোগ করেছেন, কেউ কোন পদ পেয়েছেন কি না, কোন ধরনের পদ পেয়েছেন, কোন সরকারী সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন কি না এগুলোর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কি না সেসম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় কমিটি গ্রহণ করবে।

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, আওয়ামী লীগ এখন তথ্যপ্রযক্তিতে অনেক শক্তিশালী। দলের নেতাদের তথ্যগুলো ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে এবং দলের সভাপতি এগুলো পর্যবেক্ষেণ করবেন। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচন, বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন এবং সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এই তথ্যভাণ্ডার দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমণ্ডি কার্যালয় তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এসেছে। সেখানে সিসিটিভি বসানো হয়েছে এবং কার্যালয়ে কী হচ্ছে তা আওয়ামী লীগ সভাপতি তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করতে পারেন। মাঝে মাঝেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংযোগ স্থাপন করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।  পর্যায়ক্রমে সারাদেশের আওয়ামী লীগ কার্যালয়গুলোকেও এরকম ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় আনা হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জনগণ যে বিপুল ম্যান্ডেট দিয়েছে তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে আওয়ামী লীগকেই। এজন্য আমাদেরকেই সবসময় সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। জনগণ যেন কোন কারণে আমাদের কোন কাজে কষ্ট না পায়, বিরক্ত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর