ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নতুন মিশনে জামাত!

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০২:২৫ পিএম
নতুন মিশনে জামাত!

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজনীতির মাঠে শক্ত অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আপাতত গোপনে দল গোছানোর কাজ করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে সারাদেশের আমীর নির্বাচনেরও কাজ শেষ করেছে দলটির নেতারা। এরই মধ্যে নতুন কাউন্সিলেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটির বর্তমান নেতৃত্ব। চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির বৈঠকে নিষ্পত্তি হবে বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়। এক দশক ধরেই প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপে আছে দলটি। গত কয়েক বছর ধরে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত হয়ে দলটির প্রথম সারির প্রায় সব নেতাই দণ্ডিত হয়েছেন। কারো ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আবার কেউ কেউ আজীবন দণ্ড নিয়ে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে আছেন। আর এসব  প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমান নেতৃত্ব জামাতকে এগিয়ে নিতে চুপি চুপি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠে দলের কর্মী কিংবা নেতাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে নানামুখী সাংগঠনিক কার্যক্রম দেয়া হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে একক প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র ব্যাপারে অংশ নেয় দলটির নেতারা। কোথাও কোথাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনেও জামাত প্রার্থীরা তৎপরতা চালাচ্ছে। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে চায় দলটি। ইতিমধ্যে দলের কর্ম পরিষদ সদস্যরা গোপন বৈঠক করে এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্রগুলো জানায়, এত ঘটনার পরও জামাতের বর্তমান নেতৃত্বের মনোবল কোনভাবেই ভাঙেনি। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সারাদেশে জামাতের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। তাছাড়া জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোও অর্থনৈতিকভাবে বেশ শক্তিশালী। অর্থের যোগান ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে হয়ে থাকে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, বর্তমান বাস্তবতায় এবং অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী বর্তমান নাম পরিবর্তনের চিন্তা করছে দলটি। দলটির সূরা সদস্যরা এমন প্রস্তাব করেছেন। তবে নাম কী হবে বা কবে নাগাদ নতুন নাম আসবে- তা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জামাতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানা গেছে, জামায়াত ইসলামীর তরুণ নেতাদের বেশিরভাগই চায় নতুন নামে আসুক জামাত। অতীত ভুলের জন্য প্রয়োজনে ক্ষমা চেয়ে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের চেতনায় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুক। তাদের যুক্তি হচ্ছে-নাম বদলালে জামাত ক্ষতিগ্রস্ত নয়, বরং লাভবানই হবে।

সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে জামায়াতে ইসলামীর মজলিশে শুরার বৈঠক হয়। পরিস্থিতির কারণে একসঙ্গে এ বৈঠক করতে না পারায়, সারা দেশের ১৩টি অঞ্চলে আলাদাভাবে একইদিনে শুরার সদস্যরা বৈঠক করেন। এরপর লিখিত আকারে তাদের মত কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ বৈঠকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে মত দেন শুরার সদস্যরা। একই বৈঠকে জামাতের বর্তমান নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাবও করেন শুরা সদস্যরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুর অঞ্চলের জামাতের প্রভাবশালী এক সদস্য জানান, সাংগঠনিকভাবে প্রায় ১০ বছর ধরে অনেকটা নিষিদ্ধ অবস্থায় আছে দলটি। তাদের প্রভাবাধীন আর্থিক ও সেবামূলক অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ঐ নেতা আরো জানান, তারা ইতিমধ্যে দল গোছানোর কাজ করছেন। সারা দেশের বেশিরভাগ জেলায় জামাতের আমীর নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে নির্বাচিত আমীররা শপথ গ্রহণ করেছেন। নাম বদলানোর বিষয়টি জোরালোভাবে বিবেচনায় আছে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এমআর