ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আজ সেই কলঙ্কময় দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৮:০৯ এএম
আজ সেই কলঙ্কময় দিন

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৬ সালের এইদিনে জনগনের ভোটের অধিকারকে কলঙ্কিত করা হয়েছিল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারের পতনের পর এদেশের মানুষ আশা করেছিল যে, জনগনের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে। আমার ভোট আমি দিবো। যাকে খুশি তাকে দিবো। এই অধিকারটি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু একানব্বইয়ের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবার শুরু হয় ভোটের অধিকার হরণের ষড়যন্ত্র। মাগুরায় উপ নির্বাচন, মিরপুরের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন যে, জনগনের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন করতে হবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি ঘোষণা করে, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রধানের কোন বিধান সংবিধানে নেই এবং এ ধরনের বিধান করা সম্ভব নয়।’ বেগম খালেদা জিয়া একধাপ এগিয়ে বলেন যে, ‘পাগল এবং ছাগল ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ নয়।’ এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের সাংসদরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায় সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে সারাদেশে গণঅভ্যুথানের পরিস্থিতি তৈরী হয়। কিন্তু জনদাবি উপেক্ষা করে বিএনপি একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং ১৯৯৬ সালের আজকের দিনে সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণবিহীন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া শুধুমাত্র আত্মস্বীকৃত খুনিদের দল ফ্রিডম পার্টি অংশগ্রহণ করে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল যে, বাংলাদেশের ৩০০ টি নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশতে কোন নির্বাচন বা ভোটগ্রহণই হয়নি। তীব্র জনপ্রতিরোধের মুখে এই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত না হলেও বিএনপি একটি সরকার গঠন করে। এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকে।

১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় দিন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু গণতন্ত্রকেই হত্যা করা হয়নি। এদেশের জনগনের ভোটের অধিকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসের একটা পায়তারা করা হয়েছিল। কিন্তু জনগন ১৫ ফেব্রুয়ারিকে রুখে দেয়। তিনমাসের মধ্যেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। এবং একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। গণ দাবির মুখে বেগম খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হন। আজকের দিনটি তাই জনগনের অধিকার আদায়ের দিন। জনগনের অধিকার যে জনগন আদায় করতে পারে, সেটির স্মারক দিন হলো ১৫ ফেব্রুয়ারি।

বাংলা ইনসাইডার