ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তারেক জিয়াকে চার ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৭:০০ পিএম
তারেক জিয়াকে চার ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ

পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে লন্ডনে চার ঘন্টাব্যাপি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া হিসেবেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার দণ্ডিত তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছে এবং এ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে যে, তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অনেকদুর অগ্রগতি হয়েছে। যেকোনো সময় তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে হয়তো ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল তারেক জিয়াকে হোম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা চারঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই জিজ্ঞাসাবাদে মূলত চারটি বিষয় উঠে এসেছে।

প্রথমত, লন্ডনে তারেক জিয়া কীভাবে চলছেন। টাকার উৎস, কোথা থেকে পেয়েছেন? ২০০৭ সালে তারেক জিয়া যুক্তরাজ্য সফরে যান এবং ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। এই লন্ডনে অবস্থানকালে তাঁর জ্ঞাত আয়ের কোনো উৎস নেই। কিন্তু তিনি যেকোনো উচ্চবিত্তের চেয়েও বিলাসী জীবনযাপন করছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানতে চেয়েছে যে, একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী কীভাবে এত বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং তাঁর টাকার উৎস জানতে চান। জবাবে তারেক কি বলেছেন সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে লন্ডনে যারা থাকেন তাঁরা জানেন যে তারেকের বৈধ কোনো টাকার উৎস নেই।

দ্বিতীয়ত, যে বিষয়টি তারেকের কাছে জানতে চেয়েছে তা হলো, তারেক কেনো রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছে। গত ছয় সাতমাস তারেক জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি স্কাইপের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। এমনকি মনোনয়ন বোর্ডের সভায়ও তিনি স্কাইপের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেছেন। নির্বাচনের পরও তিনি বিভিন্ন নেতার সঙ্গে টেলিফোনে এবং স্কাইপে কথা বলছেন। মূলত বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তারেক জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি চলছে। একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী কীভাবে অন্যদেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে, অন্যদেশের রাজনৈতিক তৎপরতায় ভূমিকা রাখে সেটা নিয়ে ব্রিটিশ হোম ডিপার্টমেন্ট প্রশ্ন তুলেছে।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশ যে তারেককে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছে, সে আবেদনে সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে তারেক জিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এ ব্যাপারে কিছু তথ্য প্রমাণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। সে ব্যাপারেও হোম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা তারেককে জিজ্ঞাসা করেছে যে, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাঁর কি ধরণের সম্পর্ক এবং এদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতা কতটকু?

চতুর্থত, চতুর্থ যে ব্যাপারটি হোম ডিপার্টমেন্ট জানতে চেয়েছে, পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কি? এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য হোম ডিপার্টমেন্টের কাছে একাধিক তথ্য আছে যে, লন্ডনে অবস্থানরত পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে তারেক জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ আছে এবং একাধিক বৈঠকের তথ্য তাঁদের কাছে উপস্থিত রয়েছে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক যিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে লন্ডনে আছেন তিনি পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে কী বিষয়ে এত গভীর  সম্পর্ক করেন সে ব্যাপারে হোম ডিপার্টমেন্ট জানতে চেয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য এটা হলো দ্বিতীয় ধাপ। এই জিজ্ঞাসাবাদের পর যদি তারেক জিয়ার বক্তব্যগুলো ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে সন্তোষজনক না হয় তাহলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার আনুষ্ঠানিক তৎপরতা শুরু হবে বলে জানা গেছে।

বাংলা ইনসাইডার/এসআর