ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অঙ্গ সংগঠনের বাইরে থেকে নেতৃত্ব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
অঙ্গ সংগঠনের বাইরে থেকে নেতৃত্ব নয়

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই কাউন্সিলের প্রক্রিয়া শুরু করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচন, কাউন্সিল এবং দলের অন্যান্য কর্মসূচি সমান্তরালভাবে চলবে। আওয়ামী লীগ এ বছরই কাউন্সিল করতে চায়। আগামী বছর ‘মুজিব বর্ষ’ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এর আগেই কাউন্সিল করে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চায় আওয়ামী লীগ। যেন সারাদেশেই জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং জাকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা যায়।

আগামী এপ্রিল মাস থেকে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এপ্রিল থেকে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ধারাবাহিকভাবে উপজেলা, জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মধ্য আওয়ামী লীগ তৃণমূলের নেতৃত্বকে নতুন রূপে সাজাবে বলে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যেসকল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিল হয়নি, সেসব জায়গায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করার জন্য আমরা চিঠি দিচ্ছি। প্রত্যেকটা এলাকায় আমরা নবীন নেতৃত্ব বেছে নেবো। দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিল না হওয়ায়  এসব এলাকায় দীর্ঘদিন কমিটি হয় না। সেখানে নতুন কমিটি করার প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। তিনি জানান যে, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বহিরাগত এবং আওয়ামী লীগে যারা নতুন, তারা যেন নেতৃত্বে না আসতে পারে, সেজন্য কঠোর নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা কতগুলো নীতিমালা ভিত্তিতে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছেন। প্রস্তাবটি আওয়ামী সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া হবে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে, এর ভিত্তিতেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। নীতিমালায় যেসব বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

১. ইউনিয়ন থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য তাকে অবশ্যই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ বা আওয়ামী লীগের অন্য কোন অঙ্গসংগঠন থেকে আসতে হবে। অথবা যিনি মাঠ পর্যায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এসেছেন তিনি স্থানীয় পর্যায়ের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন। হঠাৎ করে বাইরে থেকে কেউ এসে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বসতে পারবেন না।

২. উত্তরাধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পদের জন্য বিবেচ্যদের পিতা, পিতামহ বা নিকটাত্মীয় আওয়ামী লীগ করেন কি না সেটা দেখা হবে। যদি কারোর পিতা, পিতামহ বা নিকটাত্মীয় আওয়ামী লীগের না হলে বিশেষ করে তারা যদি বিএনপি বা জামাতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন তথ্য পাওয়া যায় তাহলে তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক না করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হবে।

৩. স্থানীয় নেতাদের ট্র্যাক রেকর্ড দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা, দুর্নীতি বা ভূমি দখল, নদী দখলের মতো কোন অভিযোগ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে। একেবারে নিষ্কলুষ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে চায় টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ।

৪. স্থানীয় পর্যায়ে যারা নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন কিন্তু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। বিনিময়ে কিছুই পাননি। এমন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে চায় আওয়ামী লীগ।

৫. যেসব নেতাকর্মীরা দলের দুঃসময়ে বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ এবং ২০০৭ এ ১/১১’র সময় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের স্থানীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

৬. যারা দলের মধ্যে গ্রুপিং করেন না, অন্তর্কোন্দল এড়িয়ে চলেন তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হবে স্থানীয় পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য।

আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন, আওয়ামী সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচন হবে ভোটের মাধ্যমে। উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ চায় সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত হোক। বিকাশের ধারায় আওয়ামী লীগের সত্যিকারের জনপ্রিয় নেতাকর্মী যেন নেতৃত্বে আসতে পারে সে বিষয়টা নিশ্চিত করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে মূল্যায়ন পায় না। মূল সংগঠনে আসতে পারছে না। ছাত্রলীগ থেকে যেন মূল সংগঠনে আসার পাইপলাইন উন্মুক্ত হয় সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি।

এছাড়াও সারাদেশে কাউন্সিলের জন্য আওয়ামী লীগ যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তা হলো, সাংগঠনিক তৎপরতা যেন বেগবান হয়। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের ধারণা, যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে, তখন স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা ক্ষমতা নানা সুবিধা ভোগ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত থাকে। সংগঠনের দিকে মনযোগী হয় না। এজন্য আওয়ামী সভাপতি নির্দেশ দিয়েছেন, সংগঠনকে বেগবান ও গতিশীল করার জন্য কাউন্সিল প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার। যাতে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি অক্ষুণ্ন থাকে এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ ধারায় এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগ স্থানীয় পর্যায়ে সম্মেলনগুলো শেষ করবে। এছাড়াও কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের কাউন্সিলও দীর্ঘদিন ধরে হয়নি। এগুলোর সম্মেলন শেষ করে আগামী অক্টোবরে আওয়ামী জাতীয় কাউন্সিল করতে চায়।  

বাংলা ইনসাইডার/এমআর