ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘দুই বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হবে বিএনপি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৯:০০ পিএম
‘দুই বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হবে বিএনপি’

‘বেগম খালেদা জিয়া যদি মুক্তি না পান, তাহলে বিএনপি আর বড় জোর দুই বছর টিকবে। বিভিন্ন কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। জামাত বিলুপ্ত হলে বাংলাদেশে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলার কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না।’ স্বাধীনতা বিরোধীদের সংগঠন জামাতে ইসলামী তার সর্বশেষ মজলিসে শূরার বৈঠকে এই অভিমত ব্যক্ত করে। দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জামাত ২০ দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। ঐ মজলিশে শূরার বৈঠকে জামাত বিলুপ্ত করে নতুন দল গড়ার সিদ্ধান্তও নাকচ করা হয়। ঐ বৈঠকে, ৭১ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে জামাতের নীতি নির্ধারণী এই কমিটি।

সারাদেশ থেকে জামাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ে মতামত পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য ঐ মজলিশে শূরার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে ২০ দল প্রসঙ্গে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাতে বলা হয় যে ‘২০ দলীয় জোটের প্রধান দুই শরীক হলো জামাত এবং বিএনপি। এদের মধ্যে বিএনপি এখন ভারতীয় ঘরানার জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। ২০ দলকে এড়িয়ে চলছে।’ মজলিশে শূরার বৈঠকে বলা হয় ‘২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চিন্তা, চেতনা এবং আদর্শিক অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী এবং সাংঘর্ষিক। তাই জামাতের এখন বিএনপির সঙ্গে থাকার কোন যৌক্তিক ভিত্তি নেই।’ মজলিশে শূরা মনে করে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য একটি ভারতীয় নীলনক্সা। ভারত এদেশে যেন ভারতীয় আগ্রাসনবাদের বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক দল কথা না বলে, সেজন্যই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে।’ শূরার বৈঠকে বলা হয়েছে ‘বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপিকে চালানোর মতো নেতৃত্ব নেই। তাই আগামী দুই বছরের মধ্যে বেগম জিয়া যদি মুক্তি না পায় তাহলে বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে।’

বৈঠকে সারাদেশ থেকে আসা জামাত বিলুপ্তির প্রস্তাব নাকচ করে বলা হয় যে ‘ইসলাম বিরোধী শক্তি এটাই চাইছে। আমাদের পথ কঠিন এবং দুরুহ। কিন্তু এই পথ পেরুতেই হবে। এখানে বিশ্রামের কোন অবকাশ নেই।’ শূরার বৈঠকে বলা হয় ‘জামায়াতে ইসলামীর জন্য এরকম কঠিন পরীক্ষা নতুন নয়। এরচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জামাতের নেতারা সংগঠন করেছে। তাই জামাতকে বিলোপের চিন্তা মাথা থেকে নামিয়ে আরো একনিষ্ঠভাবে সংগঠনের জন্য কাজ করতে হবে।’ শূরায়, ৭১ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে ‘অবান্তর’ এবং ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে নাকচ করে দেয়। শূরার বৈঠকে বলা হয় ’৭১ এ জামাত ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল।’ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদের পথ অনুসরণ করেই শূরায় বলা হয় যে ’৭১ এ জামাত গণহত্যা বা নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলো না।’

জামাতের বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, জামাতের বর্তমান মজলিশে শূরা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের পক্ষের লোকজন দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত তাই শূরায় এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু শূরার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে সারা দেশে। শিগগিরই জামাতে দলত্যাগ এবং গণ পদত্যাগ শুরু হবে বলেও একাধিক জামাত নেতা আভাস দিয়েছেন।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর