ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রাজনীতি নির্বাসনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৮:০০ পিএম
রাজনীতি নির্বাসনে

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর রাজনীতিবীদদের কদর কমে গেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কিংবা ১৪ দলের শরিকদের শীর্ষনেতাদের কাজ নেই। একরকম বেকার জীবন কাটাচ্ছেন তারা। নতুন সরকার গঠনের পর নির্বাসনে গেছে রাজনীতি। নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। নদী দখলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। চলছে ভেজাল বিরোধি অভিযান। সড়কে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্যও তৎপর হয়েছে নতুন সরকার। ৭ জানুয়ারি নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় হেভিওয়েট নেতারা নেই। মন্ত্রীরা ব্যস্ত দাপ্তরিক কাজে। হাতে গোনা দু-একজন মন্ত্রী ছাড়া রাজনৈতিক বিষয়ে মন্ত্রীদের তেমন আগ্রহ নেই। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী আর তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমে কিছুটা রাজনীতিকে জিইয়ে রেখেছেন। সেটাও বিএনপির দু-একজনের কথার উল্টোপিঠের কথাই শুধু। দলের সিনিয়র নেতারা কর্মহীন, অলস, সংসদে যাচ্ছেন, নিজেদের মধ্যে গল্প গুজবেই সময় কাটাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের আগ্রহও কমে গেছে।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিরোধি দলশুন্য করেছে। একরকম জোর করেই মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে বিরোধি দলে বসানো হয়েছে। বিরোধি দলের নেতা অসুস্থ। অন্যরাও ব্যস্ত নানা কাজে। রাজনীতির ছুটি এখন জাতীয় পার্টিতেও। রাজনীতি নিয়ে কোন উত্তাপ, উত্তেজনা নেই জাপায়।

এই নির্বাচনে সবচেয়ে বিপর্যস্ত দল হলো বিএনপি। নির্বাচনের পর অনেকেই আশংকা করেছিল বিএনপি হয়তো প্রতিবাদ করবে, আন্দোলন করবে। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপির অধিকাংশ নেতাই কোমায় চলে গেছেন। তারা যেন ঘর থেকে বেরুতে লজ্জা পাচ্ছেন। এক মির্জা ফখরুল ইসলাম কিছুদিন কিছুটা চিৎকার চেচামেচি করে ক্লান্ত হয়ে সিঙ্গাপুর হয়ে লন্ডন গিয়েছিলেন। আজই তিনি দেশে ফিরলেন। বিএনপির একমাত্র মুখপাত্র হলেন দলের সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কিন্তু তার বক্তব্য যতটা না রাজনৈতিক তার চেয়েও বেশি বিনোদন। তার কথাবার্তা রাজনীতিতে কোন গুরুত্ব বহন করে না।

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের রাজনীতি এখন সামুচা , সিঙ্গারায় বন্দি। ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ বৈঠকে ১৫ মিনিট ধরে নেতারা সিঙ্গারায় স্বাদ কিভাবে এবং কেন কমে গেছে তা নিয়ে কথা বলেছেন। একে অন্যের স্বাস্থ্য নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন। ঐক্যফ্রন্টের অধিকাংশ নেতাই পার্ট টাইম পলিটিশিয়ান। ড. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী কোর্টপাড়ায় থাকেন বেশিরভাগ সময়। নাগরিক ঐক্যের মান্না নিরুদ্দেশ। ঐক্যফ্রন্ট এখন একটা ক্লাবের মতো হয়েছে। নেতারা মাঝে মধ্যে আসেন, চা-নাস্তা খেয়ে চলে যান। বুড়ো বয়সের বিনোদন যাকে বলে।

জামাত এখন ব্যস্ত, আত্মশুদ্ধির পথ খুঁজতে। সেখানেও রাজনীতি বলতে কোন পদার্থ নেই। ১৪ দলের শরিকদের সময় কাটে সাক্ষাৎকার দিয়ে আর শুয়ে বসে।

একজন নেতা বলেছিলেন,‘ রাজনীতি এত নি:সঙ্গতায় কখন পরেছে কেউ মনেই করতে পারে না।’ রাজনীতি বিমুক্ত এই পরিবেশ কি গণতন্ত্রের জন্য বিপদ? এই প্রশ্ন অনেকের। রাজনীতি ছাড়া দেশে আমলাতন্ত্রের উথান ঘটে। গণতন্ত্রও সংকটে পরে। এজন্যই গণতন্ত্রে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী বিরোধি দল। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি এখন নির্বাসনে। এটা গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য কিছুটা উদ্বেগের তো বটেই।

 

বাংলা ইনসাইডার