ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাদেরের তিন প্রতিপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৬:০০ পিএম
কাদেরের তিন প্রতিপক্ষ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এখন স্বর্ণসময়। রাজকন্যা আর অর্ধেক রাজত্বের মতোই তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী। সিনিয়রদের সাইডলাইনে বসিয়ে তিনিই এখন কার্যতঃ দলের দ্বিতীয় ব্যক্তি। দলের সভাপতির সঙ্গেও তার বোঝাপড়া ভালো। দলে তিনি প্রচুর সময় দেন। তাই তরুণ নেতারা তাকে নিয়ে খুশিই। মন্ত্রণালয়ে ঘুষ, দুর্নীতির মধ্যে নেই, এজন্য মন্ত্রণালয়েও তার সুনাম। মন্ত্রিত্ব এবং রাজনীতিকে তিনি ওরাল স্যালাইনের মতোই মিশিয়ে ফেলেছেন। প্রশাসনিক সভাতেও তিনি সাংবাদিকদের পেলে বিএনপির বা প্রতিপক্ষ রাজনীতির বিরুদ্ধে ঠাট্টা মশকরা ভালোই করেন। আওয়ামী লীগের কোন সাধারণ সম্পাদক এমন সুখের সময় কাটিয়েছেন, ইতিহাস হাতড়ে তার সন্ধান পাওয়া যায় না। কিন্তু সুখের সময় সম্ভবত কারোরই বেশিক্ষণ থাকে না। ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও প্রতিপক্ষ তৈরি হচ্ছে। প্রতিপক্ষরা কাউন্সিলের আগে আঁটসাঁট ভাবেই নামছেন। ত্রিমুখী শত্রুর মোকাবেলা করেই ওবায়দুল কাদেরকে সামনে এগুতে হবে। দিন যতোই যাচ্ছে ওবায়দুল কাদেরের প্রতিপক্ষরা প্রকাশ্য হচ্ছে। কারা তারা?

১. সিনিয়র নেতারা: আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এখন একটা বিষয়ে একমত, সেটা হলো কাদেরকে থামাও। ওবায়দুল কাদেরের উপর প্রথমে ছিলো অভিমান। এখন তা বিরক্তিতে পর্যবসিত হয়েছে। দু’একজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, তারা ওবায়দুল কাদের সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি করছেন বলে মনে করছেন। এই নেতাদের আওয়ামী লীগে শক্ত ভিত্তি আছে। আছে অনুগত কর্মী এবং নেতা। এদের ক্রমশঃ একাট্টা করা হচ্ছে কাদেরের বিরুদ্ধে। কাউন্সিলে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বড় শো ডাউনের কথা কান পাতলেই শোনা যায়।

২. ১৪ দলের শরীকরা: ১৪ দলের শরীকরা আগে আড়ালে আবডালে ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করতেন। এখন প্রকাশ্যেই করেন। ১৪ দলের সব শরীকই মনে করেন,‘কাদেরের কারসাজি’তেই ১৪ দল নিষ্ক্রিয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন তো বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের কথায় তো ১৪ দল চলবে না।’ জাসদের একজন নেতা বলেছেন,’১৪ দল ভাঙে তাহলে সেজন্য দায়ী থাকবেন একজন ওবায়দুল কাদের।’ ১৪ দলের এই ওবায়দুল কাদের বিরোধী অবস্থান, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের জন্য এক চ্যালেঞ্জ বৈকি। যখনই আওয়ামী লীগের ১৪ দলকে দরকার হবে, তখনই শরীকরা কাদের হটাও এর শর্ত যে দেবে তা নিশ্চিত।

৩. তৃণমূলে অসন্তোষ: আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতা কর্মীর অভিযোগ ওবায়দুল কাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। বাজে ব্যবহার গালাগালিও করেন। বিশেষ করে এই মেয়াদের পর ওবায়দুল কাদের অনেক বেশী কর্তৃত্ববাদী এমন অভিযোগ প্রায়ই ইদানিং শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল খুব মারাত্মক শক্তি। দলের সভাপতি তাদের যথেষ্ট মূল্যায়ন করেন। তাই ক্ষুব্ধ তৃণমূল যদি দলের সভাপতিকে সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে অভিযোগ করে, তাহলে ওবায়দুল কাদেরের শক্ত ভিত নরম হতে সময় লাগবে না।

আওয়ামী লীগের মধ্যে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, বেশি উজ্জ্বল হলে ম্লান হতেও সময় লাগে না। ওবায়দুল কাদেরের কি সেই ম্লান হওয়ার সময় এসে গেছে?

বাংলা ইনসাইডার