ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সংস্কার প্রশ্নে বাড়ছে জামাতের অন্তর্কোন্দল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৭:০৪ পিএম
সংস্কার প্রশ্নে বাড়ছে জামাতের অন্তর্কোন্দল

একাত্তরের ভূমিকার জন্য অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়ছে জামাতে। দলে সংস্কারের দাবি ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। নেতাকর্মীদের এমন চাপ সামাল দিতে দলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুদ্ধাপরাধী দলটি। পরিবর্তন করা হবে গঠনতন্ত্র। ইতিমধ্যে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও দলটির কেন্দ্র থেকে নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে। তবে তাদের সে আশ্বাস বা উদ্যোগে বিশ্বাসী হতে পারছে না সংস্কারপন্থীরা। তাদের মতে এই কমিটি গঠন বা সংস্কারের বুলি শুধুই লোক দেখানো।

১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য বরাবরই কাঠগড়ায় জামাত। বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় জামাতের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এবার সেই দাবির পক্ষে সোচ্চার দলের সংস্কারপন্থীরা যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নবীন এবং তরুণ। কিন্তু তাদের দাবি কোনভাবেই মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় নেতারা। এরই জেরে পদত্যাগ করেছেন জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। বহিষ্কার করা হয়েছে আরেক নেতা ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। এমন নানা জটিলতা সামনে আসলেও দলের সংস্কার ও নাম পরিবর্তন করবে না জামাত। সংস্কারের দাবিতে জামাতের অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের একটি অংশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তাদের শান্ত করার জন্য চটজলদি সংস্কারের নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আসলে সংস্কারের জন্য সে কমিটি গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ সংস্কারপন্থীদের।

সাম্প্রতিক সময়ে দলের বাইরে থেকেও আন্তর্জাতিক মহল ও তাদের শরিক বিএনপির কাছ থেকে একাত্তরের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপে রয়েছে জামাত। ২০ দলীয় জোট কিংবা ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির থাকা না থাকা অনেকটাই নির্ভর করছে জামাতের সিদ্ধান্তের উপর। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে বিএনপির সব দাবিদাওয়া চাপা পড়ে যাচ্ছে জামাত ইস্যুতে।

জামাতের ঘনিষ্ঠসূত্রে জানা গেছে, জামাতের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনভাবেই তাদের নাম পরিবর্তন বা ৭১’র ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে রাজি নয়। তাদের দাবি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের জামাত এক নয়। বরং এই জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতার ৮ বছর পর ১৯৭৯ সালে। তাই স্বাধীনতার সময়ে এই জামাতের কোন ভূমিকা বা দায় থাকার প্রশ্নই আসে না। জামাতের নেতারা বলছেন, জামাতকে নতুন দল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এটাকে রাজনীতি থেকে দূরে নিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হবে। দলটিকে দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য দলের সংবিধান ও অন্যান্য কৌশলে পরিবর্তন আনা হবে।

তবে তাদের এমন পরিকল্পনা বা আশ্বাসকে ফাঁকা বুলি হিসেবেই মনে করছেন মঞ্জু বা তার মতো সংস্কারপন্থী তরুণ নেতাকর্মীরা এবং তাদের মধ্যে জামাত নিয়ে অসন্তোষ থেকে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। জামাতের ঢাকা মহানগর মজলিশে শূরার অন্যতম সদস্য মঞ্জুর মতে, জামাতের ভিতর নবীন-প্রবীণদের একটি বড় অংশই দলের সংস্কার চায়। তাদের অধিকাংশই চায়, ৭১’র ভূমিকার জন্য জামাত যেন ক্ষমা চায় এবং ধীরে ধীরে এই দাবি জোরালো হচ্ছে।

জামাতের সংস্কারপন্থী নেতাকর্মীরা বলছেন, একটি কমিটি গঠন করে দলের সংস্কারপন্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা স্রেফ লোকদেখানো। কমিটি ও পরামর্শকরা দলের বর্তমান নেতৃত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য। দলের জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে পুরনো নেতারা বহাল থাকায় সেখানে নতুনদের দাবি দাওয়ার মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তাদের মতে, জামাত সংগঠনে সংস্কার আনলেও সেটা নেতাকর্মীদের চাওয়া অনুসারে নয়। একাত্তরের জন্য যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে কোন পদে দেখতে চায় না সংস্কারপন্থীরা। কিন্তু কেন্দ্র তাদের সে দাবি মানছে না। আর এ কারণে ধীরে ধীরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে জামাতের একাংশ।

জামাতের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, জামাতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি সংস্কারপন্থীদের দাবি মেনে নেয় তাহলে পদত্যাগের মিছিলে যোগ হতে পারে আরও কিছু হেভিওয়েট নাম। এছাড়াও দলে বিদ্রোহী হয়ে বহিস্কারের শঙ্কায় রয়েছে জামাত ও শিবিরের একাধিক নেতা। এসব বহিস্কৃত ও পদত্যাগ করা এসব নেতা ও তাদের অনুসারীরা নতুন অবয়বে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর