ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কূটনীতিকরা বিব্রত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৮:০০ পিএম
কূটনীতিকরা বিব্রত

নির্বাচনের পর নির্বাচন এবং রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে ঘনঘন কূটনীতিকদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির নেতারা। এটা নিয়ে কূটনীতিকরা এখন বিব্রত এবং অনেকটা বিরক্ত বটে। কুটনীতকরা মনে করছেন যে, এতে নতুন সরকারের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হতে পারে এবং নতুন সরকারের কাছে একটি ভুল বার্তা যেতে পারে। প্রত্যেকটা দেশই জানে বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করে বাণিজ্য বৃদ্ধিই হলো কূটনীতিকদের এখন প্রধান লক্ষ্য। তাছাড়া  কূটনীতিকরা মনে করছেন যে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার যেভাবে মানবতার ডাকে সাড়া দিয়েছে তা বিস্ময়কর এবং এই ক্ষেত্রে তাঁরা সরকারকে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি বা চাপের মধ্যে ফেলতে চায় না। তাই কূটনীতিকরা এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির আমন্ত্রণ, বৈঠকের প্রস্তাব, নালিশ ইত্যাদির ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন, যুক্তরাজ্যে, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূতেরা বৈঠকে মিলিত হয়। সে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নেতারা যে নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনা ও বৈঠকের কথা বলছে, সেগুলোর ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখানো এবং সেগুলোতে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, সর্বশেষ ড. মঈন খানের বাসায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা। সেখানে তাঁরা নির্বাচনের বিভিন্ন কারচুপি, অভাব, অভিযোগ ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই বৈঠকের পর বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের যে কোর আছে সেখানে এই মনোভাব ব্যক্ত করা হয়, নির্বাচন এখন ডেড ইস্যু। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং সারাবিশের প্রায় সব দেশ এই সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকরা মনে করছেন যে, এখন বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন  নিয়ে যে অভিযোগ বা আপত্তি সেগুলো আদালত বা সাংবিধানিক পথে মীমাংসা হওয়া উচিৎ। সেটা নিয়ে কূটনীতিকদের কিছু করার দরকার নেই। 

কূটনীতিকরা মনে করেন একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে এবং নির্বাচনের ত্রুটি-বিচ্যুতি মীমাংসা করার জন্য আইনী প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সে আইনী প্রক্রিয়ায় সেটা হওয়া উচিৎ। এখানে কূটনীতিকদেরকে বিতর্কে জড়ানো উচিৎ নয়। কারণ কূটনীতিকরা মনে করছেন এর ফলে যেটা হবে যে, সরকারের সঙ্গে একটা ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। এই ভুল বুঝাবুঝিতে দুই দেশের সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণার জন্ম হতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশ এখন আগের অবস্থানে নেই। আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করত। তাঁদের ঋন বা তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট তৈরি করাই মুশকিল ছিল। ফলে দাতারা যেকোনো শর্ত আরোপ করতে পারতেন। এখন বাংলাদেশের সেই অবস্থান নেই। এখন কূটনীতিকরা আগের মতো চাপ প্রয়োগ করতে পারেন না। দ্বিতীয় বিষয় যেটা কূটনীতিকরা মনে করছেন যে, নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ হয়েছে। এটাই হলো সবচেয়ে বড় কথা। নির্বাচনে যে কারচুপির অভিযোগ ওঠেছে সেই কারচুপির অভিযোগের কোনো দালিলিক প্রমাণ তাঁরা দিতে পারেননি। তৃতীয়ত; কূটনীতিকরা মনে করছে যে, কূটনীতিকদের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিগত দায়িত্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যে নানারকম অনিয়ম, অভিযোগ, অনুযোগ ইত্যাদি নিয়ে মীমাংসা করার দায়িত্ব হলো আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মীমাংসা হবে। এটা কূটনীতিকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কূটনীতিকরা যদি এটিতে হস্তক্ষেপ করে সেটা হবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ। এজন্য কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে একাধিক দেশ এধরণের বৈঠকে এখন বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে যোগদানের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে ড. মঈন খানের বাসায় যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল সে বৈঠকেও একাধিক দেশের কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেনি। সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন কূটনীতিকদের নিয়ে একটি বৈঠকের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখন ব্যস্ত, তিনি এখন বৈঠক করতে আগ্রহী নন। কূটনীতিকরা এখন বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টকে বুঝাতে চাইছেন যে, এখন একটি দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করে কিনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে কিনা, সেইসব বিষয়গুলো এবং দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সে বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা সরকারের সঙ্গে সংলাপ করতে আগ্রহী। সরকারকে পরামর্শ এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে আগ্রহী। তাঁরা নির্বাচন বা কাউকে ক্ষমতায় বসানো, সরকারের সমালোচনা করা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁরা অনাগ্রহী। এজন্যই তাঁরা মনে করছেন যে, এরপর থেকে যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বৈঠকের আহ্বান জানানো হয় প্রথমে তাঁরা বৈঠকের ইস্যুগুলো জানতে চাইবে এবং ইস্যুগুলো যদি রাজনৈতিক ইস্যু হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁরা বৈঠকগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাবেন।

বাংলা ইনসাইডার/এসআর