ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাদের নাকি হানিফ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
কাদের নাকি হানিফ?

সিঙ্গাপুরের চিকিৎসারত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখন আশংকামুক্ত। তার ভেনটিলেশন খুলে ফেলা হয়েছে। ডাক্তারের ডাকে তিনি সাড়া দিচ্ছেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহে তার বাইপাস সার্জারি হবে বলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক থেকে দেড়মাসের মধ্যে ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু দেশে ফিরলেও, কাদেরকে কঠোর নিয়মের মধ্যে চলতে হবে। কাজ এবং ব্যস্ততা কমিয়ে ফেলতে হবে। আর তাই, একই সঙ্গে মন্ত্রিত্ব এবং দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তিনি পালন করতে পারবেন কিনা এ প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কি একজন নতুন সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেবেন? ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুরে যাওয়ার দুই দিন পর আওযামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মাহবুব উল আলম হানিফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে হবেন? আগামী অক্টোবর নাগাদ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হওয়ার কথা।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকরাই পরবর্তীতে দলের সাধারণ সম্পাদক হন। আওয়ামী লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। তিনি অসুস্থ হওয়ায় বঙ্গবন্ধু প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বেগম সাজেদা চৌধুরীও ৭৫ এর পর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত তারপর পূর্ণ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবদুল জলিলের স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। মাহবুব উল আলম হানিফের ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনা ঘটবে?

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, অসুস্থ, এই কারণে ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হবে না। এটা অবান্তর চিন্তা। আবদুল জলিল দুই দফা বাইপাসের পর দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। নিয়ম কানুনের মধ্যে থাকলে বাইপাসের পর একজন স্বাভাবিক জীবন যাপনই করেন। তাই, ওবায়দুল কাদের এখনই বা আগামী কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন বলেই আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতারা মনে করছেন।

তবে, আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগে দল এবং সরকার আলাদা করার চিন্তা চলছে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুব উল আলম হানিফের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে, এই প্রথম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একজন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পেলো, যিনি মন্ত্রী নন। ২০০৯ সালেও প্রয়াত সৈয়দ আশরাফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে পূর্ণকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ কেমন করেন, তার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। হানিফ যদি আগামী দুই-তিন মাস ভালোভাবে কাজ করতে পারেন এবং নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তাহলে হয়তো আওয়ামী লীগ মন্ত্রী নন, দলে সার্বক্ষণিক সময় দেবে এমন একজনকেই দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেছে নেবে।

বাংলা ইনসাইডার