ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার

আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন থেকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সতর্কবার্তা দিয়েছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। তারা তাদের নিয়মিত প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা আরো জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণের ব্যাপারেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, ইতিমধ্যেই আইনশৃংখলা বাহিনী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ঐ নির্বাচনে ছাত্রদল এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের গোলযোগ এবং নাশকতার ‘ষড়যন্ত্র’ আছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ছাত্রদল এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা নির্বাচন বানচালের জন্য একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, ডাকসুর আন্দোলনকে ঢাকায় সঞ্চারিত করার একটি নীলনক্সার খবর গোয়েন্দাদের কাছে আছে বলে জানা গেছে। এজন্য ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নয় ঢাকা জুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।

আগামী ১৭ মার্চ, জাতির পিতার ৯৯তম জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষ্যে বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় ও সরকারী কর্মসূচী রয়েছে। ঢাকায় এবং টুঙ্গীপাড়ায় ভিভিআইপি যাতায়াত আছে। ষড়যন্ত্রকারীরা এই দিবসে বিশৃংখলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করতে পারে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে।

একই ভাবে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরেও নাশকতার ছক কষা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য আছে।

তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ষড়যন্ত্র সফল হবে না। আইন প্রয়োগকারী বাহিনী এখন অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক দক্ষ। পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন ‘হোলি আর্টিজানের ঘটনার পর সারাদেশে নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা জাল নিশ্চিদ্র করা হয়েছে। কাজেই আগামীতেও এসব ষড়যন্ত্র পুলিশ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোরভাবেই দমন করবে।’

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, ‘আমরা জানি, বিএনপি এবং জামাত রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের কাছে পরাজিত হয়ে এখন ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে, এটাই তাদের রাজনীতি।’ ঐ নেতা বলেন ‘বিএনপি-জামাত সব সময়ই পেছনের দরজা দিয়ে কিছু করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এখন অনেক দক্ষ।’ তিনি বলেন ‘ষড়যন্ত্র করে একমাত্র তারাই আরো জনবিচ্ছিন্ন হবে।’

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময়ও বিএনপি-জামাত সারাদেশে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। এখন নির্বাচনের পর তারা ‘অন্য কিছু’ করতে চাইছে। এটা সফল হবে না।’

তবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে বলা হয়েছে, আগামী ১০ মার্চ থেকে পুরো মাস জুড়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে রাজধানী।

বাংলা ইনসাইডার