ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সরকারের দালাল: বিএনপিতে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ০৭:০০ পিএম
সরকারের দালাল: বিএনপিতে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সরকারের গোপন যোগাযোগের খবর পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নীতি নির্ধারক মহলের বৈঠকে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এই তথ্য উপস্থাপন করেন। ঐ বৈঠকেই আবার মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সরকারের গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপিতে এখন সরকারের দালাল কে তা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির নীতি নির্ধারক বৈঠকে জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচেনা হয়। এই আলোচনার এক পর্যায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন যে, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সরকারের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের অন্তত ৪ টি সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে ড. কামাল হোসেন কাজ করছেন। ড. কামাল হোসেন যদি সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলন করেন, তাহলে তিনি এটা করবেন কেন! দ্বিতীয় প্রমাণ হিসেবে মির্জা আব্বাস উপস্থাপন করেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শপথ গ্রহনের পর ড. কামাল হোসেন বলেছেন অন্য এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন কি করবেন না সে বিষয়ে আলোচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নিবেন। তারা মনে করছেন, ড. কামাল হোসেন সরকারের পরামর্শেই এমন কথা বলেছেন। ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মির্জা আব্বাসের তৃতীয় অভিযোগ, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে যে লিখিতপত্র দিয়েছেন, তাতে তিনি বলেছেন নির্বাচন ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বর্তমানে নতুন আরেকটি নির্বাচন করার বাস্তব অবস্থা নেই। সেজন্য সরকার যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর শ্রদ্ধাশীল থাকে সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেন অনুরোধ করেছেন। এই চিঠির মাধ্যমে ড. কামাল হোসেন কার্যত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনের এই চিঠির প্রতিফলন দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরোষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে তারা বলেছেন এই নির্বাচনটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচন বাতিল করে ভোটগ্রহণের কোন সুপারিশ বা পরামর্শ প্রদান করেনি। মির্জা আব্বাস মনে করছেন যে, ড. কামাল হোসেনকে ব্যবহার করে সরকার বিএনপিকে দুর্বল করছে। তার সঙ্গে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, এমপি এবং নীতি নির্ধারকের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। তাদের পরামর্শেই ড. কামাল হোসেন কাজ করছেন। মির্জা আব্বাস বৈঠকে অবিলম্বে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার জন্য প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে। মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএনপিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরী হয় এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির অনেক নেতাই নিজেদের বাঁচানোর জন্য, মামলা প্রত্যাহার ও জেল থেকে বাঁচার জন্য  এবং মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি মির্জা আব্বাসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, মির্জা আব্বাস তাঁর ব্যংক রক্ষা এবং বিভিন্ন মামলা থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেছেন। তবে মির্জা আব্বাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, তার অর্ধেকও আপনার বিরুদ্ধে নেই।’ এরকম উত্তেজনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যেটা করছি সবই সরকারের পক্ষে যাচ্ছে। যত আমরা বিভক্ত হবো এবং যত আমাদের মধ্যে অনৈক্য হবে ততই সরকার লাভবান হবে। এটা নিয়ে দ্রুত কি করণীয় সেটা তিনি নির্ধারণ করার জন্য সিনিয়র নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান এটাও বলেন যে, আমাদের অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের সংঘবদ্ধ হতে হবে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে ওই বৈঠকে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলের তৃনমূলদের বহিস্কারের যে আদেশ। তা তিনি পুন:বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন। একই বৈঠকে আমির খসরু মাহমুদ বলেন, যে স্থায়ী কমিটি আছে তা দিয়ে বিএনপি বড় কোন আন্দোলন করতে পারবে না। এই বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের একাধিক নেতারা তারেকের বৈঠক নিয়েও পর্যালোচনা করেন। তারা মনে করেন, তারেকের এক একটি বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপি কোন কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারছে না। আন্দোলনও করতে পারছে না। ঐ বৈঠকে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের দৈন্যদশা নিয়েও আলোচনা করা হয় এবং ছাত্রদলের ব্যাপারে মনোযোগ দেওয়ার ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়।

একাধিক সূত্র বলছে, এই বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক হলেও কোন বিষয়েই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিএনপিতে বিভক্তি আরও দানা বাধবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছে।

 

বাংলা ইনসাইডার