ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফখরুলকে তীব্র ভৎসনা খালেদা জিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ০৭:৪৩ পিএম
ফখরুলকে তীব্র ভৎসনা খালেদা জিয়ার

আজ বিকেলে নাজিমুদ্দীন রোডের বিশেষ কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জানা যায় যে, সরকার তাদের দুজনকে সমঝোতার বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মনোভাব নেওয়ার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছিল। এই সাক্ষাতে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে শর্ত বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তুলে ধরেন। শর্তগুলো হলো:

১. বেগম খালেদা জিয়াকে যদি প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সংসদে যোগ দিবেন।

২. বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেলে শুধু চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক তৎপরতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

৩. বেগম খালেদা জিয়া তার পছন্দের চিকিৎসা শেষে পুনরায় কারাগারে তিনি ফেরত যাবেন।

৪. বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে যে যাবতীয় খরচ ইত্যাদি বিএনপি বা বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার বহন করবে।

 

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা হলো:

১. বেগম খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসা করা।

২. বিএনপির আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি। রাজনৈতিক হয়রানি মূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার ইত্যাদি।

এই বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই আজ বিকেলে বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতা কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এই সমঝোতা প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়ে তিনি বলেন যে, আমি প্রয়োজনে জেলেই থাকবো এবং যা কিছু করার জেলে বসেই করবো। আমি সমঝোতা করে মুক্ত হতে চাইনা। একাধিক সূত্র বলছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তীব্র ভৎসনা করে তিনি বলেন,‘ সরকারের সঙ্গে দালালি করে কত পেয়েছেন?’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন  মাথা নিচু করে ছিলেন। নজরুল ইসলাম খান তখন খালেদা জিয়াকে বলেন,‘ এখন আন্দোলন করার মতো পরিস্থিতি নেই এবং দলের মধ্যে হতাশা কাজ করছে।’ এ সময় খালেদা জিয়া অবিলম্বে দলের স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করার নির্দেশ দেন। ঢালাওভাবে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের বহিস্কারের তীব্র সমলোচনা করে এটা বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি প্রথমে সংগঠন গুছিয়ে দ্রুত আন্দোলনের জন্য দলকে প্রস্তুত করার জন্য মির্জা ফখরুলকে নির্দেশ দেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাদের করা হবে বা কি করা হবে সে ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়ার মতামত চাইলে বেগম খালেদা জিয়া সেখানে অপেক্ষাকৃত তরুণদেরকে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনাই চুড়ান্ত নয়। কারণ বিএনপিতে এখন বেগম খালেদা জিয়ার কথাই শেষ কথা নয়। বেগম খালেদা জিয়ার এই আলোচনার প্রেক্ষিত্রে লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুল কথা বলবেন এবং তারপরই তিনি এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে এ দফায় যে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় যে বেগম খালেদা জিয়ার মত নেই সেটা আজকের সাক্ষতে স্পষ্ট হয়েছে।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ