ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নব নির্বাচিত ডাকসু নেতৃবৃন্দকে কি বলবেন প্রধানমন্ত্রী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ০৯:৩০ পিএম
নব নির্বাচিত ডাকসু নেতৃবৃন্দকে কি বলবেন প্রধানমন্ত্রী?

শনিবার (১৬ মার্চ) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসু নির্বাচিতদের সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী ডাকসুতে নব নির্বাচিতদের গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন হলো যে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে কি ডাকসুকে কেন্দ্র করে বিতর্ক, অচলাবস্থা এবং অনিশ্চয়তার অবসান হবে? প্রধানমন্ত্রী কি বলবেন নবনির্বাচিত ডাকসু নেতৃবৃন্দকে? জানা গেছে যে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নাটকীয়ভাবে এবার ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন। সেই নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। একাধিক সূত্র বলছে যে, এই বৈঠকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নির্বাচিত দুইজনসহ ছাত্রলীগের সকলেই অংশগ্রহণ করবেন। এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসু নির্বাচতদের কাছে তাদের করণীয় এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরবেন। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দর হয়েছে। এখানে কিছু কিছু যে সমস্যা হয়েছিল তা মিটিয়ে ফেলার জন্য যে মান অভিমান, তা কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতির অভিবাবক হিসেবে এই ছাত্র নেতৃবৃন্দকে পরামর্শ দিবেন। ছাত্রদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলবেন। সংশ্লিষ্টসূত্র গুলো বলছে,প্রধানমন্ত্রী ডাকসু নেতৃবৃন্দকে পাঁচটি পরামর্শ দিবেন।

প্রথমত, নবনির্বাচিত ডাকসু নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাবেন। শিক্ষার্থীদের যে সমস্যা এবং শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ডাকসুকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে তিনি অনুরোধ করবেন।

দ্বিতীয়ত, ডাকসুকে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে রেখে শিক্ষার্থীদের বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিবেন।

তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী ডাকসু নির্বাচনে যে বিতর্ক হয়েছিল সেই বিতর্ক এবং অনভিপ্রেত যে ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটেছিল সেগুলোকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিবেন।

চতুর্থত, তিনি সকল ছাত্র সংগঠনগুলোকে সহমর্মিতার ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম স্বত:স্ফূর্তভাবে এগিয়ে নেওয়া, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখার জন্য নির্দেশনা দিবেন।

সর্বশেষ তিনি ডাকসু নেতৃবৃন্দকে আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য নিজেদের তৈরী করার অনুরোধ করবেন।

একাধিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণ নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরকে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু নুর সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। কাজেই তার আমন্ত্রনে আমি সাড়া দিবোই। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনের পরে যে বিভিন্ন মহল ভোট বাতিলের দাবিতে অনশনসহ নানা রকম কর্মসূচী গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই সবকিছুরই অবসান ঘটবে। রবি কিংবা সোমবারের মধ্যে নতুন ডাকসু তাদের কার্যক্রম শুরু করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

 

বাংলা ইনসাইডার