ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সারাদেশে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০৮:০০ পিএম
সারাদেশে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগে বিভক্তি এবং অন্ত:কলহ কাটাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যেন নিশ্চিত হয়। সেজন্য যদি কোন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ উম্মুক্ত করে দিয়েছিল। সেখানে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল না। আওয়ামী মনে করেছিল, এরফলে যেটা হবে, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এবং একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। কিন্তু এরফল হিতে বিপরীত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা মাঠ পর্যায় থেকে যে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে সারাদেশে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল বেড়ে গেছে এবং উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ এবং কোথাও কোথাও দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং মারামারির মতো ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্যেগ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। একইভাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটি সারাদেশে দেখেছে যে, অধিকাংশ স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় এমপিদের মত বিরোধ দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোথাও কোথাও প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। এরফলে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের যে শৃঙ্খলা তা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে বলে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন। এরফলে খুব শীঘ্রই দলের কার্যনির্বাহী বৈঠক করেছে। আওয়ামী লীগের একটি অংশ দাবি করছে যে, যারা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হিসেবে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।কিন্তু এই মতের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। তারা মনে করছেন, যেহেতু নির্বাচনের আগে তাদেরকে সতর্ক করা হয়নি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে। তাই এখন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তটা হবে অযৌক্তিক। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছে যে, আওয়ামী লীগেই যে আওয়ামী  লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে, এটা ভয়াবহ। এটার অন্যরকম একটা সমাধান বের করতে হবে। যে সমাধানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালি করতে হবে। তবে এর সমাধান কি তা জানা নেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। এ ব্যাপারে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে আওয়ামী লীগের ছড়িয়ে পড়া কোন্দল এবং বিরোধ মীমাংসায় একটা ফলপ্রসূ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান দিবেন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় অবশ্য দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। সেসময় প্রতিটি প্রার্থীই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতো। কিন্তু যেহেতু এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে, সেজন্য এবার প্রকটটা অনেক বেশি।

তবে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগ মাঠ পর্যায়ে অনেক বেশি বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং অধিকাংশ স্থানেই আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগই। যেহেতু প্রধান বিরোধী দল বিএনপির এখন কোনো অস্তিত্ব নেই বলা চলে। সে সমস্ত জায়গায় বিএনপি শক্তিশালী ছিল সেখানে বিএনপির প্রার্থীরা উপজেলা নির্বাচন করেছিল, তাদের আবার অনেকেই উপজেলা প্রার্থী হওয়ার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কাজেই দেশে বিএনপির শক্তিশালী ঘাটি হিসেবে পরিচিত অধিকাংশ স্থানেই বিএনপি এখন নির্মূল হয়ে গেছে। ফলে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগই হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে ভাবছেন আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক স্থানেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এরকম একটা ঘটনা আমরা লক্ষ্য করেছি। তবে আমরা নিশ্চয়ই এর সমাধান করবো। নির্বাচন হয়ে গেলে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূলদের নিয়ে বসবো। বসে তারা যেন একসঙ্গে দলের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নেবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলের সভাপতি চিন্তা করছেন যে খুব শীঘ্রই দলের তৃণমূলের সঙ্গে একটা বৈঠকের ব্যবস্থা করছেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার একটা বার্তা দিতে চান।’

দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আওয়ামী লীগ স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সিলের ব্যবস্থা করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এই বিরোধ কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’ তবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া নেতারা বলছেন, যে বিভেদের বলিরেখা আওয়ামী লীগকে স্পর্শ করেছে, তা থেকে একমাত্র পরিত্রাণ দিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এখন তিনি কীভাবে এই সমাধান দেবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

 

বাংলা ইনসাইডার